২০২২ সালে কোহ সামুই-এর একটি বিলাসবহুল ভিলায় আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন। তাঁর মৃত্যুতে ক্রিকেটবিশ্বে শোকের ছায়া নেমে আসে। সে সময় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুকে ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যেখানে হৃদ্রোগজনিত কারণকে দায়ী করা হয়েছিল। তবে প্রায় চার বছর পর তাঁর ছেলে জ্যাকসন ওয়ার্ন নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত করেছেন।
সম্প্রতি ‘টু ওয়ার্ল্ডস কোলাইড’ নামের একটি পডকাস্টে সাবেক সেনাসদস্য স্যাম ব্যামফোর্ডের সঙ্গে আলাপচারিতায় জ্যাকসন ওয়ার্ন দাবি করেন, তাঁর বাবার মৃত্যুর সঙ্গে কোভিড-১৯ টিকার সম্পর্ক থাকতে পারে। সরাসরি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তাঁর বিশ্বাস—টিকা এ ঘটনায় ভূমিকা রেখেছে এবং বিষয়টি এখন আর বিতর্কিত নয় বলে তিনি মনে করেন।
জ্যাকসনের বক্তব্য অনুযায়ী, যদি শেন ওয়ার্নের আগে থেকে কোনো শারীরিক সমস্যা থেকেও থাকে, তবে টিকা সেটিকে প্রকট করে তুলতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাবার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পরপরই তাঁর মনে হয়েছিল, এ ঘটনায় সরকার এবং কোভিড-১৯ টিকা দায়ী হতে পারে। তাঁর দাবি, সরকারি বিধিনিষেধের কারণে ওয়ার্ন একাধিক ডোজ টিকা নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।
শেন ওয়ার্নের মৃত্যুর পরপরই বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। থাই পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁর কক্ষ থেকে কিছু ওষুধ সরিয়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া তাঁর শরীরে যৌন উত্তেজক ওষুধের উপস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। তবে এসব বিষয়কে মূল কারণ হিসেবে দেখেন না জ্যাকসন; বরং তাঁর মতে, প্রকৃত কারণ ছিল কোভিড-১৯ টিকার প্রভাব।
এদিকে, ভিক্টোরিয়া সরকারের অর্থায়নে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সময়ও তিনি মানসিকভাবে অস্বস্তিতে ছিলেন বলে জানান। তিনি বলেন, সেখানে সরকারের প্রতি দায় আরোপ করার ইচ্ছা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি তা প্রকাশ করেননি।
তবে জ্যাকসন নিজেও স্বীকার করেছেন, চূড়ান্ত সত্য হয়তো অজানাই থেকে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তাঁর মতে, মৃত্যুর আগে শেন ওয়ার্ন শারীরিকভাবে ভালো অবস্থায় ছিলেন। যদিও তিনি ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাসে অভ্যস্ত ছিলেন, তবুও একই ধরনের জীবনযাপনকারী অনেক মানুষ দীর্ঘদিন বেঁচে আছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শেন ওয়ার্নের ক্রিকেট ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানগতভাবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তিনি টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সফল বোলার হিসেবে বিবেচিত।
| বিষয় | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| টেস্ট ম্যাচ | ১৪৫ |
| মোট উইকেট | ৭০৮ |
| অবস্থান | দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি |
টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় তিনি মুত্তিয়া মুরালিধরন-এর পরেই অবস্থান করছেন।
বর্তমানে জ্যাকসন ওয়ার্ন ‘শেন ওয়ার্ন লিগ্যাসি’ উদ্যোগের মাধ্যমে হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন। তাঁর লক্ষ্য, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবার হঠাৎ এমন দুঃসংবাদে আক্রান্ত না হয়।
