প্রবাসী আয় বৃদ্ধি: জানুয়ারিতে এসেছে ৩৫১৩ কোটি টাকা

বাংলাদেশে প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম তিন দিনে দেশে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ $২.৮৮ বিলিয়ন (প্রায় ৩৫১.৩৬ কোটি টাকা) হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ৪ জানুয়ারি ২০২৬-এ এই পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছেন ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই বৃদ্ধির হার ৩৭.১%, যা প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে অপরিহার্য ভূমিকা রাখছে তা প্রমাণ করে।

নিম্নে গত দুই বছরের জানুয়ারির প্রথম তিন দিনের রেমিট্যান্স তুলনামূলকভাবে দেখানো হলো:

সময়কালরেমিট্যান্স (USD)রেমিট্যান্স (BDT, কোটি)বৃদ্ধি (%)
১–৩ জানু ২০২৫২.১০ বিলিয়ন২৫৬.২
১–৩ জানু ২০২৬২.৮৮ বিলিয়ন৩৫১.৩৬৩৭.১%

এছাড়া, ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মোট প্রাপ্ত রেমিট্যান্স $১৬.৫৫৩ বিলিয়ন (প্রায় ২,০১৮.০১ কোটি টাকা) হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের $১৩.৯৮৭ বিলিয়নের (১,৭০৫.৯১ কোটি টাকা) তুলনায় ২৫.৪% বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

সময়কালরেমিট্যান্স (USD)রেমিট্যান্স (BDT, কোটি)বৃদ্ধি (%)
১ জুলাই ২০২৪–৩ জানু ২০২৫১৩.৯৮৭ বিলিয়ন১,৭০৫.৯১
১ জুলাই ২০২৫–৩ জানু ২০২৬১৬.৫৫৩ বিলিয়ন২,০১৮.০১২৫.৪%

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় কর্মরত প্রবাসীদের অর্থ প্রেরণের ধারাবাহিকতা এই বৃদ্ধির মূল কারণ। পরিবারের জীবিকা ও বিনিয়োগের প্রয়োজন প্রবাসীদের আরও বেশি অর্থ প্রেরণে উৎসাহিত করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্সে ধারাবাহিক বৃদ্ধি জাতীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এটি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে, বৈদেশিক মুদ্রার সংরক্ষণ শক্তিশালী করতে এবং সমষ্টিগত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে প্রবাসীদের জন্য আর্থিক শিক্ষার কর্মসূচি চালু রাখা এবং নিরাপদ, সাশ্রয়ী রেমিট্যান্স চ্যানেল সম্প্রসারণ করা অপরিহার্য। দেশের অর্থনীতি increasingly প্রবাসী আয় নির্ভরশীল হওয়ার কারণে, এই অর্থের কার্যকর ব্যবহার কেবল পরিবারগুলোর কল্যাণ নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।