লাভ জিহাদ নিয়ে ওয়াইসির সরাসরি টক্কর বিজেপি-আরএসএসের সঙ্গে

অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) প্রধান ও সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি সম্প্রতি ‘লাভ জিহাদ’ ইস্যুতে বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।
মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “গত ১১ বছরে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের শাসনামলে ঠিক কতটি লাভ জিহাদের মামলা হয়েছে, এবং এই শব্দের **আইনি সংজ্ঞা কি, তা জনগণের সামনে প্রকাশ করা উচিত।”

ওয়াইসির বক্তব্য অনুযায়ী, বিজেপি বিভিন্ন রাজ্যে ‘লাভ জিহাদ’ ইস্যুকে সামনে এনে রাজনৈতিক ফায়দা অর্জন করতে চাইছে, কিন্তু বাস্তবে এর কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, “ভারতের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের নিজের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কারও ব্যক্তিগত পছন্দ বা সম্পর্কের মধ্যে অন্য কোনো মতাদর্শের হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই।”

ওয়াইসির এই মন্তব্য এসেছে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে। ভাগবত ভোপালের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, “পরিবারে শিশুদের সঙ্গে ধর্ম ও সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা না হলে লাভ জিহাদের মতো ঘটনা ঘটে।”
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ওয়াইসি স্পষ্ট করে বলেন, মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সঙ্গে কোনও সংগঠনের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

ওয়াইসি অভিযোগ করেন, বেকারত্ব, সীমান্ত উত্তেজনা, এবং অন্যান্য জাতীয় সমস্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে জনগণের মনোযোগ সরানোর জন্যই বিজেপি ও আরএসএস পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসছে। তার মতে, সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং দেশের প্রকৃত সংকট সমাধান করা সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব।

নিচের টেবিলটিতে সাম্প্রতিক ‘লাভ জিহাদ’-সংক্রান্ত মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়াগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

প্রকাশক/সংগঠনমন্তব্য/প্রকাশনাতারিখ/স্থানওয়াইসির প্রতিক্রিয়া
মোহন ভাগবত (আরএসএস)শিশুদের সঙ্গে ধর্ম ও সংস্কৃতি আলোচনা না হলে লাভ জিহাদ ঘটেভোপাল, সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানব্যক্তিগত স্বাধীনতা হস্তক্ষেপের অধিকার নেই
আসাদউদ্দিন ওয়াইসিগত ১১ বছরে কত মামলা হয়েছে জানাতে হবে; আইনি সংজ্ঞা প্রকাশ করা জরুরিঅমরাবতী, সাংবাদিক সম্মেলনরাজনৈতিক সুবিধার জন্য তত্ত্ব তৈরি হচ্ছে; নাগরিক অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে

ওয়াইসির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, দেশের রাজনৈতিক বিতর্কে ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সংবিধানকে প্রাধান্য দেওয়া অপরিহার্য। পাশাপাশি তিনি সরকারকে সতর্ক করেছেন, দেশের প্রকৃত সমস্যাগুলো এড়িয়ে গিয়ে বিভেদমূলক ইস্যু নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা অনুচিত।