হলিউডের কিংবদন্তি পরিচালক জেমস ক্যামেরনের জাদুর কাণ্ড আবারও জ্বলে উঠেছে। মুক্তির মাত্র ১৭ দিনে বিশ্বজুড়ে এক বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড গড়েছে তার তৃতীয় ‘অ্যাভাটার’ কিস্তি ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ (Avatar: Fire and Ash)। ২০২৬ সালের শুরুতেই সিনেমাটি বক্স অফিসে এক অভূতপূর্ব ধামাকা সৃষ্টি করেছে এবং দর্শক হৃদয় জয় করতে সক্ষম হয়েছে।
রেকর্ডগড়ার নতুন অধ্যায়
চলচ্চিত্র বিষয়ক ট্র্যাকিং সংস্থা অনুসারে, সিনেমাটি মুক্তির ১৭ দিনে বৈশ্বিকভাবে ১.০৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এর মধ্যে উত্তর আমেরিকা থেকে এসেছে ৩০৬ মিলিয়ন ডলার, এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে ৭৭৭ মিলিয়নেরও বেশি।
এই অর্জনের মাধ্যমে জেমস ক্যামেরন প্রথম এমন পরিচালক হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন, যিনি পরিচালিত চারটি ভিন্ন সিনেমা—‘টাইটানিক’, ‘অ্যাভাটার ১’, ‘অ্যাভাটার ২’ এবং ‘অ্যাভাটার ৩’—বক্স অফিসে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে।
বক্স অফিসের বিশদ তথ্য (মিলিয়ন ডলারে)
| বাজার | আয় (মিলিয়ন ডলার) | মোটের শতাংশ |
|---|---|---|
| উত্তর আমেরিকা | 306 | 28% |
| চীন | 320 | 30% |
| ইউরোপ (ফ্রান্স, জার্মানি, অন্যান্য) | 250 | 23% |
| অন্যান্য আন্তর্জাতিক | 157 | 15% |
| মোট বৈশ্বিক আয় | 1080 | 100% |
কেন আলোচনার কেন্দ্রে?
সিনেমার কাহিনী প্যান্ডোরা গ্রহের নতুন রূপ ও সেখানে বসবাসকারী ‘অ্যাশ পিপল’ বা ছাই মানুষের গল্পকে কেন্দ্র করে তৈরি। আগের দুই কিস্তির তুলনায় এটি অধিক অন্ধকার এবং রহস্যময়, যা দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা ও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে চীন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ভারতে সিনেমাটি অভাবনীয় ব্যবসা করছে।
প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে
উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এক নম্বর অবস্থান ধরে রেখেছে ‘ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’। বড় কোনো প্রতিযোগী সিনেমা না থাকায় ২০২৬ সালের শুরুতেই এটি বক্স অফিসের শীর্ষস্থান দখল করেছে। ডিজনি এবং টুয়েন্টিথ সেঞ্চুরি স্টুডিওস জানিয়েছে, আইম্যাক্স (IMAX) এবং থ্রিডি স্ক্রিন থেকে আয়ের একটি বড় অংশ এসেছে, যা সিনেমার বাণিজ্যিক সাফল্যকে আরও বাড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রেকর্ড শুধু আর্থিকই নয়, বরং জেমস ক্যামেরনের দৃঢ় ভিশন ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের একটি নিদর্শন। চলচ্চিত্র প্রেমীরা এখন আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন, পরবর্তী কিস্তি ‘অ্যাভাটার ৪’-এর জন্য।
