বিদ্রোহ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সাবেক এমপি ছালেক চৌধুরী বহিষ্কৃত

নওগাঁ-১ আসনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. ছালেক চৌধুরীর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাঁকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল স্তরের পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ৫ জানুয়ারি (সোমবার) গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৪ জানুয়ারি রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই আদেশ কার্যকর করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াই ডা. ছালেক চৌধুরীর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। নওগাঁ-১ (পোরশা-সাপাহার-নিয়ামতপুর) আসনে এবার বিএনপি নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানকে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদান করেছে। কিন্তু দলের এই মনোনয়ন গ্রহণ না করে ডা. ছালেক চৌধুরী বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নিজের মনোনয়নপত্র বৈধ করিয়ে নিয়েছেন, যা সাংগঠনিক বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে বিএনপির হাইকমান্ড।

ডা. ছালেক চৌধুরীর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও বর্তমান বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দুগুলো নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:

ডা. ছালেক চৌধুরীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও বর্তমান সংকটের সারসংক্ষেপ

বিষয়ের বিবরণতথ্যের বিস্তারিত
রাজনৈতিক পরিচয়সাবেক সংসদ সদস্য ও সভাপতি, নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপি।
সাফল্যের ইতিহাস১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি), ১৯৯৬ (জুন) ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয় লাভ।
বর্তমান অপরাধদলীয় মনোনয়নের বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা।
আদেশ জারি৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কেন্দ্র থেকে বহিষ্কারাদেশ কার্যকর।
নির্বাচনী ভবিষ্যৎমনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হলেও দলীয় সমর্থন ও পদ হারালেন।

বহিষ্কারের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ডা. ছালেক চৌধুরী বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা এখনও পার না হওয়ায় তাঁকে বহিষ্কার করা যুক্তিসঙ্গত হয়নি। তিনি আরও যোগ করেন যে, দলের ভেতরে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের দাবি, দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া সংগঠনের চেইন অব কমান্ড বা শৃঙ্খলা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলার শামিল।

উল্লেখ্য, ডা. ছালেক চৌধুরী নওগাঁ-১ আসন থেকে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তবে এবার তরুণ নেতৃত্বের গুরুত্ব দিয়ে দল মোস্তাফিজুর রহমানকে বেছে নিয়েছে। এই বহিষ্কারাদেশের ফলে নওগাঁর আঞ্চলিক রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের সৃষ্টি হয়েছে। দলের একটি অংশ আশঙ্কা করছে যে, সাবেক এই এমপির বহিষ্কারের ফলে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া বিএনপির জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।