প্রশাসন ও লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে মামুনুল হকের শঙ্কা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি হওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নেতা মাওলানা মামুনুল হক। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ স্তরে এখনো বিগত স্বৈরাচারী শাসনের দোসররা সক্রিয় রয়েছে। রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জের ভূইগড় এলাকায় এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা এই অশুভ শক্তিটি সবসময়ই ইসলামী ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে কাজ করে, যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়।

মাওলানা মামুনুল হক মনে করেন, গত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের সুবিধাভোগীরা এখনো প্রশাসনিক কাঠামোতে আসীন থাকায় নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তিনি প্রশাসনের সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত পুরনো আমলের পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকর্তাদের অপসারণ করা না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইসলামী দলগুলোর জন্য নির্বাচনে সমান সুযোগ নিশ্চিত হওয়া কঠিন। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নির্বাচনী জোট ও আসন বণ্টন নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশা পরিষ্কার করতে গিয়ে মামুনুল হক জানান, বর্তমানে তাঁরা কোনো আনুষ্ঠানিক জোট গঠন না করলেও ‘এক ব্যালট বক্স’ নীতিতে ইসলামপন্থীদের মধ্যে একটি শক্তিশালী আসন সমঝোতা প্রক্রিয়া চালু রেখেছেন। তিনি দাবি করেন যে, তাঁদের মধ্যে কোনো অভ্যন্তরীণ বিরোধ নেই এবং অচিরেই কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও আসন বিন্যাস ঘোষণা করা হবে। স্থানীয় পর্যায়ের কোনো নেতার ঘোষণা এই প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

নির্বাচনী প্রস্তুতি ও সমসাময়িক বিতর্কের প্রধান দিকগুলো নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:

মামুনুল হকের বক্তব্য ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিশ্লেষণ

আলোচনার মূল বিষয়বর্তমান প্রেক্ষাপট ও পর্যবেক্ষণদলীয় বা ব্যক্তিগত অবস্থান
নির্বাচনী পরিবেশপ্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ফ্যাসিস্ট দোসরদের অবস্থান।লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে তীব্র শঙ্কা।
আসন সমঝোতাইসলামপন্থীদের মধ্যে আসনভিত্তিক ঐক্যের চেষ্টা।কেন্দ্রীয়ভাবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের ঘোষণা।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনজামায়াত নেতার ব্যক্তিগত ঘোষণা নিয়ে বিভ্রান্তি।খন্দকার আনোয়ার হোসেনই প্রধান প্রার্থী।
১০১ আলেমের বিবৃতিশীর্ষ আলেমদের নাম ব্যবহারের বিতর্ক।বিবৃতিটি ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, “স্থানীয় পর্যায়ে কে কাকে সমর্থন দিল বা আসন ছেড়ে দিল, তার কোনো সাংবিধানিক বা সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে ঢাকা থেকে এবং এখন পর্যন্ত এই আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী খন্দকার আনোয়ার হোসেনই শীর্ষ তালিকায় রয়েছেন।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো একক ঘোষণা গ্রহণ করা হবে না।

সবশেষে তিনি আলেমদের নামে প্রচারিত বিতর্কিত বিবৃতির তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, কতিপয় অসাধু চক্র রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য শীর্ষ আলেমদের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক আলেম ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই বিবৃতির সাথে তাঁদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি সকলকে সজাগ থাকার এবং যেকোনো উসকানিমূলক খবরের সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেন।