মাদুরো অপহরণের প্রতিবাদ: ১০ জানুয়ারি মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করবে যুক্তফ্রন্ট

ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের ওপর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী নগ্ন আগ্রাসন এবং দেশটির নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে অপহরণের ঘটনায় রাজপথে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। এই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে এবং মার্কিন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে আগামী ১০ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে রাজনৈতিক এই মোর্চাটি। গত ৪ জানুয়ারি রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বামপন্থী ও প্রগতিশীল নেতৃবৃন্দ এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা ভেনেজুয়েলায় পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর নজিরবিহীন জলদস্যুতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাঁরা বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার দোহাই দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার দখল করার হীন উদ্দেশ্যে এই সন্ত্রাসী হামলা পরিচালনা করেছে। আন্তর্জাতিক রীতিনীতি তোয়াক্কা না করে একজন নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে সস্ত্রীক অন্য দেশে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি বিশ্ববিবেককে স্তব্ধ করে দিয়েছে। নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, এই বর্বরোচিত হামলায় এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যা একটি চরম মানবতাবিরোধী অপরাধ।

বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়। নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, বাংলাদেশের মতো একটি রাষ্ট্রকে অবিলম্বে এই বর্বরোচিত সামরিক হামলার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানাতে হবে এবং মার্কিন প্রশাসনের কাছে কড়া প্রতিবাদলিপি পাঠাতে হবে। তাঁরা সতর্ক করে বলেন, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দুর্বল ভূমিকা এবং নীরবতা বিশ্বকে নতুন এক বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে।

ভেনেজুয়েলার বর্তমান সংকট এবং গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:

ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি ও যুক্তফ্রন্টের প্রতিবাদী রূপরেখা

প্রেক্ষাপটবর্তমান অবস্থা ও প্রভাবযুক্তফ্রন্টের প্রধান দাবিসমূহ
প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তামাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক অপহরণ।অবিলম্বে তাঁদের নিঃশর্ত মুক্তি ও স্বদেশে ফেরত পাঠানো।
মার্কিন হস্তক্ষেপআন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সামরিক আগ্রাসন।ভেনেজুয়েলা থেকে সকল মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার।
সম্পদ ও লক্ষ্যজ্বালানি ও খনিজ সম্পদ দখলের নীল নকশা।দেশের জাতীয় সম্পদের ওপর ভেনেজুয়েলার জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা।
মানবিক বিপর্যয়অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু ও অস্থিতিশীলতা।বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতি বা সরকার নির্ধারণ করার অধিকার কেবল সেই দেশের জনগণের। সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কেবল অগণতান্ত্রিকই নয়, বরং আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার জন্য চরম হুমকি। সাম্রাজ্যবাদী এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সারা বিশ্বের শান্তিকামী ও প্রগতিশীল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্কাফী রতন ও বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদসহ অন্য নেতারা।

প্রেস ক্লাবের সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা ও বায়তুল মোকাররম এলাকা ঘুরে আবারও পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়। আগামী ১০ জানুয়ারির দূতাবাস অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি সফল করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে সমাবেশের সমাপ্তি টানা হয়।