আয় কমলেও একরামুজ্জামানের সম্পদ বেড়েছে কয়েক গুণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের সম্পদের খতিয়ান বিশ্লেষণ করলে এক অভাবনীয় আর্থিক উত্থানের চিত্র ফুটে ওঠে। বিগত সাত বছরের ব্যবধানে তাঁর নগদ অর্থের পরিমাণ ২৭ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সমান্তরালে বেড়েছে ব্যাংকঋণের বোঝাও। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা ও পাম জুমেইরাহ’র মতো অভিজাত এলাকায় তাঁর মালিকানাধীন তিনটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের তথ্য এবারই প্রথম প্রকাশ্য হলফনামায় উঠে এসেছে।

রাজনীতিতে ডিগবাজি এবং ব্যবসায়িক প্রভাবের মিশেলে একরামুজ্জামানের সম্পদ বাড়লেও নথিপত্র অনুযায়ী তাঁর বার্ষিক আয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। আরএকে সিরামিকসের এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক একসময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা থাকলেও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের বলয়ে যুক্ত হন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, এইচএসসি পাস এই প্রার্থীর বর্তমানে ৩ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি ব্যাংকঋণ রয়েছে, যা তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের বিশালতা ও ঝুঁকির দিকটি নির্দেশ করে।

স্থাবর সম্পদের তালিকায় দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহতে ৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা মূল্যের ২ হাজার ১৫৭ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, মারসায় ১ কোটি ৩২ লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাট এবং আইকনিক বুর্জ খলিফায় ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাটের তথ্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশে নাসিরনগর, মুক্তাগাছা, হবিগঞ্জ ও ময়মনসিংহে কয়েকশ শতাংশ কৃষিজমি এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামে কোটি কোটি টাকার অকৃষিজমি ও অট্টালিকা রয়েছে তাঁর নামে। তাঁর স্ত্রী নাঈমা আক্তার জাহান এবং দুই পুত্রের নামেও রয়েছে কয়েক কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ।

বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনের হলফনামার তথ্যের আলোকে তাঁর আর্থিক পরিবর্তনের তুলনামূলক চিত্রটি নিচে তুলে ধরা হলো:

একরামুজ্জামানের বিগত সাত বছরের আর্থিক বিবর্তন

বিবরণ২০১৮ সালের হলফনামা২০২৪ সালের হলফনামাবর্তমান হলফনামা (২০২৬)
বার্ষিক আয়১৬ কোটি ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা৫৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা৪ কোটি ৪৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা
নগদ অর্থ৭৯ লাখ টাকা২৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা২১ কোটি ৬৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা
অস্থাবর সম্পদ৩৬৫ কোটি ৬৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা৪১৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা৪২১ কোটি ৯২ লাখ ১২ হাজার টাকা
স্থাবর সম্পদ৭২ কোটি ৩০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা১০৭ কোটি ৩৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা৮২ কোটি ৯৯ লাখ ৫ হাজার টাকা
মোট ঋণ১৩৩ কোটি ৭০ লাখ ৬ হাজার টাকা২,৩০১ কোটি টাকা২,৯২১ কোটি টাকা

আয়কর বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একরামুজ্জামান ৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন এবং তাঁর প্রদর্শিত মোট সম্পদের পরিমাণ ২৬৫ কোটি ৩ লাখ টাকা। অথচ ২০১৮ সালে তাঁর ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ১৩৩ কোটি টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৯২১ কোটি টাকায়। এই বিপুল ঋণ তিনি ১২টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ৩৫টি ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রহণ করেছেন। সম্পদ বৃদ্ধির এই জ্যামিতিক হার এবং ঋণের পাহাড় বর্তমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।