ভারতের রাজধানী দিল্লীর কাছাকাছি ফারিদাবাদে ঘটে এক চরম নৃশংস ঘটনা—একটি চলন্ত ভ্যানে ২৮ বছর বয়সী এক নারী প্রায় দুই ঘণ্টা ত্রিশ মিনিট ধরে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ ইতিমধ্যে দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বরাত অনুযায়ী, ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর রাতে। ভুক্তভোগী নারী বাসায় ফেরার জন্য গাড়ি খুঁজছিলেন। দুই যুবক তাকে ‘নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার’ প্রলোভনে তাদের ভ্যানে তুলে নেন। কিন্তু তারা তাকে বাড়ি না নিয়ে গুরগাঁওয়ের একটি নির্জন সড়কের দিকে নিয়ে যান।
ভ্যানে অবস্থানকালে নারীর ওপর কয়েক ঘন্টা ধরে নৃশংসভাবে অত্যাচার চালানো হয়। পরে অভিযুক্তরা তাকে আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী নারী বারবার চেষ্টা করে তার বোনকে ফোন করেন এবং অবশেষে ঘটনার তথ্য জানাতে সক্ষম হন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার মুখে ১০–১২টি সেলাই করতে হয়েছে।
নারীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও, মানসিকভাবে তিনি গভীরভাবে আহত। পুলিশ জানিয়েছেন, এখনো তার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বিবাহিত এবং তিন সন্তান রয়েছে, তবে পারিবারিক কলহের কারণে স্বামী থেকে আলাদা জীবন যাপন করছিলেন।
ভুক্তভোগীর বোন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনার আগের রাতে প্রায় ৮:৩০টার দিকে তার বোন তাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, মা সঙ্গে ঝগড়ার পর বন্ধু বাড়িতে যাচ্ছেন এবং তিন ঘন্টার মধ্যে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে।
পুলিশ ভ্যানটি জব্দ করেছে এবং ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তকারীরা এখনো অন্যান্য সহযোগীদের সনাক্ত করতে কাজ করছেন।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| ভুক্তভোগীর বয়স | 28 বছর |
| তারিখ ও সময় | 30 ডিসেম্বর, রাত |
| স্থান | ফারিদাবাদ, হরিয়ানা |
| ধর্ষণের সময়কাল | প্রায় ২.৫ ঘন্টা |
| অভিযুক্ত সংখ্যা | ২ জন (গ্রেপ্তার) |
| গাড়ির ধরন | ভ্যান |
| ভুক্তভোগীর অবস্থা | শারীরিকভাবে স্থিতিশীল, মানসিকভাবে আহত |
| চিকিৎসা | মুখে ১০–১২টি সেলাই |
| পারিবারিক পটভূমি | বিবাহিত, তিন সন্তান, স্বামী থেকে আলাদা বসবাস |
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য ব্যাপক তদন্ত চলছে। সকল সম্ভাব্য সহযোগীকে দ্রুত শনাক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
