যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাংক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স (সিএফআর) সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপভিত্তিক প্রতিবেদনে সতর্ক করেছেন যে, ২০২৬ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আবারও সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক উত্তেজনা, সীমান্ত সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং দ্বিপক্ষীয় সামরিক মুখোমুখি অবস্থার প্রেক্ষাপটে এই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, “উচ্চমাত্রার সন্ত্রাসী তৎপরতা” ভারত–পাকিস্তান সম্পর্ককে সরাসরি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেছেন, আন্তর্জাতিক উদ্যোগ এবং কূটনৈতিক সংলাপ সত্ত্বেও যদি সন্ত্রাসী হামলা বাড়ে, তাহলে ২০২৬ সালে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা তীব্র আকার নিতে পারে।
সিএফআর প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও সীমান্ত ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার এক মাস পর মে মাসে ভারত–পাকিস্তানের স্বল্পকালীন সামরিক সংঘাত সংঘটিত হয়েছিল। ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ পাকিস্তানের ভেতরে সন্ত্রাসী শিবিরগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
| তারিখ | ঘটনা | পরিণতি |
|---|---|---|
| ৬–৮ মে ২০২৫ | ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের সন্ত্রাসী শিবির লক্ষ্য করে হামলা | ১০০+ জঙ্গি ধ্বংস, ৯টি শিবির ধ্বংস |
| ৭–১০ মে ২০২৫ | পাকিস্তান সশস্ত্র ড্রোন দিয়ে ভারতীয় লক্ষ্যবস্তুতে হামলার চেষ্টা | প্রতিটি ড্রোন প্রতিহত, কোনো প্রাণহানি হয়নি |
| ১০ মে ২০২৫ | দু’পক্ষের সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে সমঝোতা | এলওসি জুড়ে গোলাগুলি বন্ধ, উত্তেজনা প্রশমিত |
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তেও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে পাকিস্তান কাবুলে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের প্রধান নুর ওয়ালি মেহসুদকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। আফগানিস্তানের প্রতিক্রিয়ার ফলে পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়।
সিএফআর সতর্ক করেছে, আফগানিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা বৃদ্ধি পেলে ২০২৬ সালে ‘মাঝারি মাত্রার’ সশস্ত্র সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত ও জটিল করে তুলতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য সময় এসেছে সক্রিয় কূটনীতি ও সীমান্ত পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি করার, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা যায়।
