চৌমুহনীতে বেসরকারি হাসপাতালে তান্ডব ও লুটতরাজ: আতঙ্কে রোগী-স্বজন

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌর এলাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কলেজ রোডস্থ রাবেয়া প্রাইভেট হাসপাতালে এ ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র তাণ্ডবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে চরম ভীতির সঞ্চার হয় এবং প্রাণ বাঁচাতে তারা হাসপাতালের ভেতরেই ছোটাছুটি শুরু করেন। এই হামলায় হাসপাতালের তিনজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালের বিপুল পরিমাণ সম্পদের ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় ৫০-৬০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল হঠাৎ করে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করে। হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট চিকিৎসক আবু নাছের তখন অপারেশন থিয়েটারে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অস্ত্রোপচার করছিলেন। হামলাকারীরা ভেতরে ঢুকেই প্রশাসনিক কক্ষ, অভ্যর্থনা কেন্দ্র এবং রোগ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত আধুনিক যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করতে থাকে। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। হাসপাতালের দাবি অনুযায়ী, হামলাকারীরা ক্যাশ কাউন্টারে রক্ষিত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ লুটে নিয়ে যায়।

এই পরিকল্পিত হামলায় রতন দেবনাথ, তোফাজ্জল হোসেন এবং শাহীনুর আক্তার নামের তিনজন হাসপাতাল কর্মী আহত হন। তারা বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দীর্ঘ তিন দশক ধরে সেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির মালিক ডা. আবু নাছের ব্যথিত কণ্ঠে জানান যে, কোনো ধরনের পূর্বশত্রুতা বা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ ছাড়াই কেন এই তাণ্ডব চালানো হলো, তা তাদের বোধগম্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের অনেকের চেহারা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে এবং এটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হাসপাতালের ওপর হামলার সামগ্রিক চিত্রসুনির্দিষ্ট তথ্য উপাত্ত
আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানরাবেয়া প্রাইভেট হাসপাতাল, চৌমুহনী
আক্রান্ত হওয়ার তারিখ ও সময়সোমবার সন্ধ্যা, আনুমানিক ১৯:৩০ মিনিট
আহত কর্মীদের নামরতন দেবনাথ, তোফাজ্জল হোসেন ও শাহীনুর আক্তার
হামলাকারীদের ধরন ও সংখ্যা৫০-৬০ জনের সশস্ত্র একটি দল
ক্ষয়ক্ষতির বিবরণআসবাবপত্র, কম্পিউটার, রোগ নির্ণয় সরঞ্জাম ও নগদ অর্থ
দাবীকৃত আর্থিক ক্ষতি৫০ লক্ষ টাকার উপরে
আইনি কার্যক্রম৮ জন নামীয় ও ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে মামলা

বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশের আসার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। হাসপাতালের চেয়ারম্যান আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই ঘটনার ফলে স্থানীয় চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীদের নিরাপত্তার বিষয়টি এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন যে, পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সাথে দেখছে। ভাঙচুরের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর জড়িতদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্ত্রাসীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার কাজ চলছে। স্থানীয় সুশীল সমাজ ও চিকিৎসক সমাজ এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।