বাংলাদেশ রেলওয়ে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির আড়ালে এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর আঘাত হানার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সোমবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রেলের ক্ষতি করার যেকোনো অপচেষ্টা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট করা কেবল আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ নয়, এটি জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্যও এক বিরাট হুমকি।
নাশকতামূলক ঘটনার চিত্র ও মন্ত্রণালয়ের উদ্বেগ
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে ইদানীং ঘটে যাওয়া কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, তুচ্ছ কারণে রেললাইন অবরোধ করে যাত্রী ভোগান্তি সৃষ্টি এবং সুপরিকল্পিতভাবে রেললাইনের ক্ষতিসাধনের মতো বিষয়গুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে একদিকে যেমন সাধারণ যাত্রীরা অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে রেলওয়ের সুনাম ও ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে।
রেলপথের নিরাপত্তা ও আইনি ঝুঁকির তুলনামূলক চিত্র:
| ক্ষয়ক্ষতির ধরণ | যাত্রী ও রেলের ওপর প্রভাব | আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা |
| পাথর নিক্ষেপ | যাত্রী ও চালকের গুরুতর জখম ও প্রাণের ঝুঁকি। | বিশেষ ক্ষমতা আইনে কঠোর সাজা। |
| অবৈধ অবরোধ | ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ও যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি। | আইনত দণ্ডনীয় ও দ্রুত বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা। |
| রেললাইনের ক্ষতি | ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের স্থায়ী লোকসান। | প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতকরণ। |
| নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড | আর্থিক লোকসান ও রেলওয়ের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ। | সিসিটিভি ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি। |
নাগরিক দায়িত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধি
রেলকে একটি জাতীয় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হওয়ায় এর রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষা করা দেশের প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র ও নৈতিক দায়িত্ব। সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত এই সেবাটি সুরক্ষিত থাকলে দেশ ও জাতি লাভবান হয়। তাই যেকোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে রেলওয়েকে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত থাকতে বিজ্ঞপ্তিতে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় মনে করে, সচেতন জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া রেলের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
নিরাপদ যাত্রীসেবা নিশ্চিতে সরকারের প্রতিশ্রুতি
বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রীসাধারণের জন্য সাশ্রয়ী ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করতে বর্তমানে বহুমুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। নতুন কোচ সংযোজন, আধুনিক ইঞ্জিন কেনা এবং নতুন নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে কেবলমাত্র জনগণের সুবিধার্থে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মানসম্মত ও নিরাপদ যাত্রীসেবা বজায় রাখতে রেলপথ মন্ত্রণালয় সর্বদা সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো ধরণের নাশকতার খবর পাওয়া মাত্রই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
