পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলার অভিযোগ: উত্তপ্ত ক্রেমলিন-কিয়েভ সম্পর্ক

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি ব্যক্তিগত বাসভবন লক্ষ্য করে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো। সোমবারের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এই হামলার জন্য সরাসরি ইউক্রেনকে দায়ী করেছেন। তবে কিয়েভ এই অভিযোগকে রাশিয়ার সাজানো ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে অভিহিত করে তা নাকচ করে দিয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন বিশ্বনেতারা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন।

হামলার বিবরণ ও রাশিয়ার দাবি

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, রাশিয়ার নভগোরোদ অঞ্চলে অবস্থিত প্রেসিডেন্টের একটি বাসভবন লক্ষ্য করে এই ড্রোন অভিযান চালানো হয়। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয় থাকায় বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটেনি। তবে লাভরভ স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের বাসভবনে হামলার এই ধৃষ্টতা রাশিয়া সহজে মেনে নেবে না এবং এর জন্য কড়া জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে মস্কো।

হামলার পরিসংখ্যান ও প্রতিরক্ষা কার্যক্রম:

সংশ্লিষ্ট তথ্যবিস্তারিত বিবরণ
হামলার লক্ষ্যবস্তুনভগোরোদ অঞ্চলে অবস্থিত পুতিনের বাসভবন।
ব্যবহৃত অস্ত্রদূরপাল্লার কামিকাজে ড্রোন।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থামোট ৯১টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি রুশ বাহিনীর।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণকোনো প্রাণহানি বা কাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
প্রেসিডেন্টের অবস্থানহামলার সময় পুতিন সেখানে ছিলেন কি না তা জানানো হয়নি।

শান্তি আলোচনায় নতুন সংকট

সের্গেই লাভরভ সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন যে, পুতিনের বাসভবন লক্ষ্য করে এই আক্রমণ ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চলমান শান্তি আলোচনার পরিবেশকে চরমভাবে বিঘ্নিত করবে। যদিও রাশিয়া এখনও আলোচনা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে যায়নি, তবে এই ঘটনার ফলে আলোচনার টেবিলে মস্কোর অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাভরভ মনে করেন, ইউক্রেন এই ধরণের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আলোচনার সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করতে চাইছে।

ইউক্রেনের জোরালো প্রতিবাদ

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার সাথে তাঁর দেশের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকার বিষয়টি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি একে রাশিয়ার “মনগড়া গল্প” বলে অভিহিত করেছেন। জেলেনস্কি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ফ্লোরিডায় যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সফল বৈঠকের পর আন্তর্জাতিক মহলে ইউক্রেনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই মস্কো এই ষড়যন্ত্র করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি লেখেন, “রাশিয়া আবারও একই নোংরা খেলায় মেতেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের সাথে আমাদের সফল কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ম্লান করতেই তারা এমন বিপজ্জনক বক্তব্য দিচ্ছে। আমরা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের কাজ চালিয়ে যাব।”

হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্পের মধ্যস্থতা

এদিকে, হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ইউক্রেন সংকট নিরসনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে একটি ‘ইতিবাচক ফোনালাপ’ সম্পন্ন হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সক্রিয় মধ্যস্থতার মধ্যেই পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলার খবর বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন ধাঁধা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা সত্যিই ইউক্রেন করেছে নাকি রাশিয়া নিজস্ব কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নে এমন দাবি তুলছে—তা এখন বড় প্রশ্ন।