টেকসই, স্থিতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ব্যাংকটি ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে আয়োজন করে বার্ষিক ঝুঁকি সম্মেলন ২০২৫। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল— “টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য প্রোঅ্যাকটিভ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা”। এতে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, শীর্ষ ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন এবং দেশের ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান ও উদীয়মান ঝুঁকি চ্যালেঞ্জ নিয়ে গভীর আলোচনা করেন।
সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. আরিফুর রহমান। তিনি বলেন, ঝুঁকি সচেতনতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে এখন আর কোনো একটি বিভাগ বা নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। বরং এটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তার মতে, বিচক্ষণ ও আগাম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাই টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করে, আমানতকারীদের আস্থা রক্ষা করে এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কঠোর নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও বাজার নজরদারির প্রেক্ষাপটে তিনি ঝুঁকি পূর্বানুমান করার সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, শক্তিশালী করপোরেট গভর্ন্যান্স, কার্যকর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিক্রিয়াশীল নয় বরং পূর্বাভাসভিত্তিক ঝুঁকি সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করাই আধুনিক ব্যাংকিং সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান সাঈদ ফরিদুল ইসলাম এবং প্রিমিয়ার ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম. নূরুল আলম। তারা বোর্ড পর্যায়ের তদারকি, নৈতিক বাজার আচরণ এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সম্মেলনে ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার ব্যাপক উপস্থিতি প্রিমিয়ার ব্যাংকের whole-of-bank ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা দৃষ্টিভঙ্গিকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মনজুর মোফিজ, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম সেকান্দার, একাধিক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান ঋণ কর্মকর্তা এবং এসইভিপি ও প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা মো. নাকিবুল ইসলাম সম্মেলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
আলোচনায় ঋণঝুঁকি কেন্দ্রীকরণ, মূলধন পর্যাপ্ততা, তারল্য চাপ, তহবিল স্থিতিস্থাপকতা, করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রক প্রত্যাশার মতো আন্তঃসংযুক্ত ঝুঁকি বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বক্তারা বাসেল-৩ কাঠামো এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঝুঁকি গভর্ন্যান্স শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।
কারিগরি অধিবেশনে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন “ন্যূনতম মূলধন প্রয়োজন (MCR) ও আইসিএএপি: একটি কেস স্টাডি” শীর্ষক উপস্থাপনা দেন। এতে তিনি দেখান, প্রভিশন ঘাটতি কীভাবে সিআরএআর ও লিভারেজ অনুপাতকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে এবং কেন ভবিষ্যতমুখী মূলধন পরিকল্পনা অপরিহার্য।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)-এর সহযোগী অধ্যাপক মো. আলমগীর ও ড. মো. শহীদ উল্লাহ একাডেমিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমসাময়িক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও তদারকি প্রত্যাশা তুলে ধরেন।
সম্মেলনের শেষে অংশগ্রহণকারীরা প্রোঅ্যাকটিভ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার, মূলধন পরিকল্পনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বাসেল-৩ নীতিমালার প্রতি কঠোর আনুগত্যের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয়সমূহ
| আলোচনার ক্ষেত্র | মূল গুরুত্ব |
|---|---|
| ঋণঝুঁকি ও মূলধন পর্যাপ্ততা | কেন্দ্রীকরণ ঝুঁকি, প্রভিশন ও সিআরএআর ব্যবস্থাপনা |
| তারল্য ও তহবিল | স্ট্রেস পরিস্থিতি, তহবিল স্থিতিস্থাপকতা ও জরুরি পরিকল্পনা |
| করপোরেট গভর্ন্যান্স | বোর্ড পর্যায়ের তদারকি, জবাবদিহি ও ঝুঁকি সংস্কৃতি |
| নিয়ন্ত্রক সম্মতি | বাসেল-৩ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা |
| মূলধন পরিকল্পনা | আইসিএএপি, লিভারেজ অনুপাত ও ভবিষ্যতমুখী মূল্যায়ন |
এই কৌশলগত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রিমিয়ার ব্যাংক আবারও প্রমাণ করেছে যে, শক্তিশালী গভর্ন্যান্স, সুশৃঙ্খল মূলধন ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত এন্টারপ্রাইজভিত্তিক ঝুঁকি কাঠামোর মাধ্যমে তারা অনিশ্চয়তার মাঝেও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত।
