পৌষ মাসের শুরুতেই গোটা দেশ শীতের তীব্রতার প্রভাবে কাঁপছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জনজীবন রীতিমতো বিপর্যস্ত। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। কম তাপমাত্রার প্রভাবে নিম্ন আয়ের মানুষদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। শিশু ও বৃদ্ধরা শীতের চরম প্রতিকূলতায় পড়ছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতের দিকে মেঘনা নদীতে দুই যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। ঘন কুয়াশা ও কম দৃশ্যমানতার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়ছে।
বর্তমানে দেশের সাতটি জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই জেলার মধ্যে রয়েছে: চুয়াডাঙ্গা, যশোর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার প্রভাব দেখা দিতে পারে।
দেশের বিভিন্ন স্থানের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (২৬-২৭ ডিসেম্বর ২০২৫)
| জেলা | সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (°C) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| যশোর | ৯.০ | মৌসুমের সর্বনিম্ন |
| চুয়াডাঙ্গা | ৯.৬ | মৃদু শৈত্যপ্রবাহ |
| গোপালগঞ্জ | ৯.৮ | শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি |
| পাবনা (ঈশ্বরদী) | ১০.০ | কুয়াশার প্রভাবে দৃশ্যমানতা কম |
| কক্সবাজার (টেকনাফ) | ২৯.০ | সর্বোচ্চ তাপমাত্রা |
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, দেশের অভ্যন্তরের জলাধার, বিল, হাওর ও পাহাড়ি এলাকায় সৃষ্ট কুয়াশা এবং ভারতের উত্তর–পশ্চিম অঞ্চল থেকে প্রবেশ করা কুয়াশা মিলিত হয়ে ঘন কুয়াশা সৃষ্টি করছে। এ কুয়াশা মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলে অবস্থান করছে, ফলে দিনের বেলাতেও সূর্যের আলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং শীতের অনুভূতি তীব্র হচ্ছে।
কুয়াশার কারণে বিমান, নৌ ও সড়ক যোগাযোগে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া ও আরিচা–কাজিরহাট নৌরুটে সন্ধ্যা নামলেই ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের আটটি বিভাগের ওপর শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে। উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে হিমেল হাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ কাঁপছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে, কুয়াশার প্রকোপ আরও অন্তত পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে জানুয়ারির শুরুতে দেশের শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য বিশেষ যত্নের প্রয়োজন।
