লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত এবং দীর্ঘ তিন দশক ধরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অপেক্ষায় থাকা সোমালিল্যান্ডকে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের’ মর্যাদা দিয়েছে ইসরায়েল। গত শুক্রবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে সোমালিল্যান্ডকে একটি রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণকারী বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখালো ইসরায়েল। দীর্ঘ সময় ধরে সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বায়ত্তশাসন পরিচালনা করা অঞ্চলটির জন্য এটি একটি বিশাল কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, সোমালিল্যান্ডের এই স্বীকৃতি মূলত ‘আব্রাহাম চুক্তির’ চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তি ও কূটনৈতিক চুক্তির ধারাবাহিকতা এটি। এই ঘোষণার পরপরই সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি একে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বের’ নতুন দিগন্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন যে, তারা আব্রাহাম চুক্তিতে যুক্ত হয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
সোমালিল্যান্ডের এই নতুন স্বীকৃতি এবং দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক রূপরেখা নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
ইসরায়েল-সোমালিল্যান্ড কূটনৈতিক সম্পর্কের মূল বৈশিষ্ট্য
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য ও তথ্যাবলি |
| স্বীকৃতির ধরন | পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। |
| প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি | ইসরায়েল (সোমালিল্যান্ডের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান)। |
| কূটনৈতিক চুক্তি | আব্রাহাম চুক্তির আলোকে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ। |
| প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ | রাষ্ট্রদূত নিয়োগ ও দূতাবাস স্থাপনের সিদ্ধান্ত। |
| কৌশলগত ভিত্তি | লোহিত সাগর ও হর্ন অব আফ্রিকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। |
| ভবিষ্যৎ লক্ষ্য | বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও কৃষি খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা। |
১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর সোমালিল্যান্ড বিশ্বের দরবারে সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। যদিও তাদের নিজস্ব পতাকা, মুদ্রা, সেনাবাহিনী এবং একটি সফল গণতান্ত্রিক সরকার কাঠামো রয়েছে, তবুও আন্তর্জাতিক মহলে তারা এতদিন স্বীকৃতিহীন ছিল। গত বছর প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আসা এই প্রথম স্বীকৃতিটি সোমালিল্যান্ডের জন্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন দরজা খুলে দিতে পারে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে এখন থেকে ‘পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক’ বজায় থাকবে। ইতিমধ্যে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা অবিলম্বে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ ও দূতাবাস খোলার প্রাথমিক কাজ শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগরের কৌশলগত অবস্থানে সোমালিল্যান্ডের অবস্থান ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক প্রভাবে এটি ইসরায়েলকে বিশেষ সুবিধা দেবে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইতিমধ্যে সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্টকে ইসরায়েল সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যা এই সম্পর্কের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তোলে।
