ভুয়া ডিবি পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা: ডেমরায় তিন প্রতারক আটক

রাজধানীর ডেমরা এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে অপহরণের চেষ্টা ও দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবির সময় তিন প্রতারককে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডেমরার বাঁশেরপুল সংলগ্ন ফেয়ার হেভেন ব্লু টাওয়ারের সামনে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। গ্রেফতারকৃতরা ডিবি পুলিশের আদলে সরঞ্জাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও অপহরণের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

ভুক্তভোগী মো. সোহাগের বর্ণনা অনুযায়ী, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিলেন। বাঁশেরপুল এলাকায় পৌঁছালে একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কার তাঁর গতিরোধ করে। গাড়ি থেকে কয়েকজন ব্যক্তি নেমে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে দাবি করে যে, সোহাগের নামে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা রয়েছে। তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। এ সময় চক্রের মূল হোতা মাহমুদুল হাসান খান তাঁকে হুমকি দিয়ে বলেন, মামলা থেকে বাঁচতে হলে এখনই ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

সোহাগ প্রতিবাদ করলে এবং পরিবারকে ফোন দিতে চাইলে প্রতারকরা তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং তাঁর হাত থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি দামী ঘড়ি ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে সোহাগের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে পরিস্থিতি বদলে যায়। উপস্থিত জনতা ওই ব্যক্তিদের কাছে ডিবি পুলিশের পরিচয়পত্র (ID Card) দেখতে চাইলে তারা অসংলগ্ন আচরণ শুরু করে। স্থানীয়দের চাপে পড়ে চক্রের ২-৩ জন সদস্য কৌশলে পালিয়ে গেলেও তিনজনকে জনতা আটকে রেখে ডেমরা থানায় খবর দেয়।

নিচে গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় ও উদ্ধারকৃত মালামালের একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:

গ্রেফতারকৃত প্রতারক চক্রের বিবরণ ও জব্দকৃত সরঞ্জাম

আসামির নাম ও বয়সস্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানাউদ্ধারকৃত মালামাল
মো. মাহমুদুল হাসান খান (২৫)রাজাপুর, ঝালকাঠি; বর্তমানে ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।০১টি সাদা রঙের প্রাইভেট কার।
মো. হোসেন রানা (২৯)নড়িয়া, শরীয়তপুর; বর্তমানে ধলপুর, যাত্রাবাড়ী।০২টি ওয়াকিটকি (Walkie-talkie)।
মো. মমিন (২৪)দক্ষিণ বাগাপুর, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।ওয়াকিটকির চার্জার ও অন্যান্য।
পলাতক আসামি২-৩ জন (তদন্তাধীন)।লুণ্ঠিত হাতঘড়ি ও নগদ অর্থ।

খবর পেয়ে ডেমরা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তিন প্রতারককে হেফাজতে নেয়। পুলিশ তাদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত প্রাইভেট কার ও ওয়াকিটকি সেট জব্দ করেছে, যা তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ব্যবহার করত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করলেও পলাতক সহযোগীদের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য এড়িয়ে যাচ্ছে।

ডেমরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুরাদ হোসেন (পিপিএম) জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. সোহাগ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, “প্রতারক চক্রটি ডিবি পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় সক্রিয় ছিল বলে আমরা ধারণা করছি। গ্রেফতারকৃতদের শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং তাদের রিমান্ডে নিয়ে পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হবে।” রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে ডিবি বা পুলিশের পরিচয় দিলে সবসময় বৈধ পরিচয়পত্র যাচাই করার জন্য তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।