ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তসংলগ্ন ইছামতী নদীতে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে পরপর দুটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে নদীর তীরবর্তী এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সেখানে জড়ো হন। পরে কয়েকজন ব্যক্তি সাহস করে নদীতে নেমে কচুরিপানার নিচে একটি ভাসমান মরদেহ দেখতে পান। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই তারা দ্রুত মহেশপুর থানা পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে খবর দেন।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সীমান্তের জিরো লাইন থেকে আনুমানিক ১০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইছামতী নদীর পানিতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি কয়েকদিন আগে পানিতে ভেসে এসে কচুরিপানার নিচে আটকে ছিল।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি পচে ফুলে গেছে, যা দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মৃত্যুর সময় তিন থেকে চার দিন আগে। এখনো মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে মরদেহের পকেটে একটি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে, যার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ আরও জানায়, মরদেহটির সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে তা ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, মরদেহটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইছামতী নদীর কচুরিপানার নিচে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
উল্লেখ্য, এর মাত্র তিন দিন আগে—গত সোমবার রাত প্রায় ৯টার দিকে—একই স্থান থেকে আরেক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই মরদেহটির পরিচয়ও এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে পরপর দুটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাজুড়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে মাঝে মাঝে বিভিন্ন কারণে অজ্ঞাত মরদেহ ভেসে আসতে দেখা যায়। এসব ঘটনার পেছনে দুর্ঘটনা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কিংবা অবৈধ সীমান্ত পারাপারের ঝুঁকি থাকতে পারে। বিশেষ করে ইছামতী নদীর মতো সীমান্তঘেঁষা জলপথে পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা থেকে যায়।
নিচে গত তিন দিনের ঘটনাগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো—
| তারিখ | সময় | স্থান | ঘটনা | পরিচয় |
|---|---|---|---|---|
| ১৩ এপ্রিল (সোমবার) | রাত ৯টা | ইছামতী নদী, মহেশপুর সীমান্ত | অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার | শনাক্ত হয়নি |
| ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) | সন্ধ্যা ৬টা | একই স্থান | দ্বিতীয় মরদেহ উদ্ধার | যাচাই চলছে |
এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য দ্রুত জানাতে আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ইছামতী নদীঘেঁষা মহেশপুর সীমান্তে পরপর দুইটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য আরও গভীর হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি, পাসপোর্ট যাচাই এবং ময়নাতদন্তের ফলাফলই এই ঘটনার প্রকৃত চিত্র উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
