রাজধানীর তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে, যা প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে দায়ের করা হয়। মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের প্রাসঙ্গিক ধারায় অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত বৃহস্পতিবার রাতের দিকে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলো পত্রিকার কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে তারা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়। হামলাকারীরা অফিসের বিভিন্ন অংশে আগুন ধরিয়ে সম্পত্তি ধ্বংস করে। মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা দাঙ্গা সৃষ্টি করে অবৈধভাবে কার্যালয়ে প্রবেশ করে, হত্যার উদ্দেশ্যে অগ্নিসংযোগ করে, ভয় সৃষ্টি করে এবং অপরাধের প্রমাণ ধ্বংস করেছে।
এছাড়া মামলায় বলা হয়েছে, হামলা ও লুটপাটের সময় শুধু ভাঙচুর করা ও লুট করা সম্পদের মূল্য প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে প্রথম আলো জানিয়েছে, হামলায় পুরো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩২ কোটি টাকা। এ ঘটনার ফলে প্রতিষ্ঠানের ২৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংবাদপত্রের প্রকাশনা একদিনের জন্য বন্ধ ছিল। অনলাইন সংস্করণের কার্যক্রমও প্রায় ১৭ ঘণ্টা থেমে ছিল।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার রাতে ২০ থেকে ৩০ জন দুষ্কৃতকারী দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও দাহ্য পদার্থ নিয়ে মিছিল করে প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে। পুলিশ বাধা দিলেও তারা আইনবহির্ভূতভাবে কার্যালয় ঘিরে উত্তেজনাপূর্ণ স্লোগান দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট ছড়িয়ে লোক জড়ো করে। পরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ৪০০–৫০০ জন দুষ্কৃতকারী উপস্থিত হয়। রাত ১১টা ৫০ মিনিটে তারা কার্যালয়ের ফটকের কাচ ও শাটার ভেঙে ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ চালায়।
হামলাকারীরা অফিসের বিভিন্ন আসবাবপত্র, নথিপত্র এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ধ্বংস করে। তারা ফায়ার সার্ভিসকে বাধা দেয়, সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এই হামলার সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে, যা মামলায় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
