নির্বাচন ঘিরে ঝিনাইদহে সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় সন্ত্রাসী তৎপরতা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। অবৈধ অস্ত্রের প্রকাশ্য ব্যবহার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং নাশকতার পরিকল্পনায় জনমনে চরম নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের অর্থায়নে পরিচিত ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সহযোগীরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় ঝিনাইদহের কয়েকটি উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান তুলনামূলক সহজ বলে জানা গেছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে এলাকায় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েকজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৩ নভেম্বর কালীগঞ্জ উপজেলার সড়াবাড়িয়া এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি পিস্তল, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় মাসুদ হোসেন নামের এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী পালিয়ে গেলেও তার বাড়ি থেকে একটি ভারতীয় পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা পিস্তলে ‘Made in India’ লেখা ছিল।

জানা গেছে, মাসুদ হোসেনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও হত্যাসহ ১০টির বেশি মামলা রয়েছে। তাকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে কোলা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদকে গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রামচন্দ্রপুর বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আলাউদ্দিন আল আজাদ ও পার্শ্ববর্তী জামাল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সাবেক এমপি আব্দুল মান্নানের ঘনিষ্ঠ হয়ে তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। কালীগঞ্জের বড় তালিয়ান, ছোট তালিয়ান, পারিয়াট, সড়াবাড়িয়া ও রামচন্দ্রপুর গ্রামের একাধিক ব্যক্তি এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত বছরের ৯ নভেম্বর কোলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম সরোয়ার হোসেন মোল্লাকে কোলা বাজারে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরদিন একই ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শুকুর আলীকেও একইভাবে আহত করা হয়। একই সময় ছাত্রদল নেতা জোবায়ের আহম্মেদ বনির বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও মানবাধিকার কর্মী আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী তৎপরতা বাড়াচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, “আমাদের একাধিক গোয়েন্দা টিম কাজ করছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি।”

ঝিনাইদহে সন্ত্রাসী তৎপরতার সংক্ষিপ্ত চিত্র :

বিষয়তথ্য
এলাকাঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা
উদ্বেগের কারণনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাস ও অস্ত্র ব্যবহার
উদ্ধারকৃত অস্ত্রভারতীয় পিস্তল, গুলি, দেশীয় অস্ত্র
প্রধান অভিযুক্তমাসুদ হোসেন
গ্রেপ্তারআলাউদ্দিন আল আজাদসহ কয়েকজন
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসেনাবাহিনী ও পুলিশ
প্রশাসনের অবস্থানজিরো টলারেন্স নীতি