রাজধানীর নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার সামনের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে শুক্রবার সকালভোরে একটি ট্রাক উল্টে যাওয়ায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে এয়ারপোর্ট রোডের এক লেনে যান চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হয়। যানজটের প্রভাব বনানী কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। পাশাপাশি মাটিকাটা ফ্লাইওভার ধরে মিরপুরের কালশী পর্যন্ত যানজট অনুভূত হয়। অফিসগামী, স্কুলগামী ও সাধারণ পথচারীরা দীর্ঘ সময় ভোগান্তিতে পড়েন।
গুলশান ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, সকাল ৮টা ৫৩ মিনিটে নিকুঞ্জ-১ এর আউটগোয়িং এলাকায় একটি লোডেড ট্রাক উল্টে যায়। স্থানীয়রা জানান, ট্রাকটি উল্টে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় যান চলাচল অর্ধেক বাধাপ্রাপ্ত হয়ে যায়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ট্রাফিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উল্টে যাওয়া ট্রাকের কারণে পথচারী ও গাড়ি চালকরা আতঙ্কিত হন। অনেকেই নিরাপদ স্থানে দাঁড়িয়ে যানজটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। যানজটের কারণে অফিসগামী ও শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট হয়, এবং অন্যান্য যাত্রীরাও দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় আটকা পড়ে।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গুলশান ট্রাফিক বিভাগের ফেসবুক পেজে জানানো হয়, উল্টে যাওয়া ট্রাকটি সরানো হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা যান চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য তৎপর ছিলেন। তারা গাড়ির লাইন ঠিক রাখার পাশাপাশি যানবাহনকে পর্যায়ক্রমে রাস্তায় প্রবেশ করান।
গুলশান ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা জানান, “দূর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উল্টে যাওয়া ট্রাক সরানোর কাজ শুরু করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়। আমরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি, বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ের সময়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভোরের এই দুর্ঘটনার কারণে সকালভোরের ব্যস্ত সময়ে বড় ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। যানজটের কারণে অফিস, স্কুল এবং অন্যান্য দৈনন্দিন কার্যক্রম প্রভাবিত হয়েছে।
নিচে ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্যসংক্ষেপ টেবিলে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা | ট্রাক উল্টে যাওয়ায় যানজট |
| স্থান | নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা, এয়ারপোর্ট রোড, ঢাকা |
| সময় | শুক্রবার সকাল ৮:৫৩ – ৯:৩০ |
| দুর্ঘটনার প্রভাব | এক লেনে যান চলাচল ব্যাহত, বনানী ও কালশী পর্যন্ত যানজট |
| পুলিশ পদক্ষেপ | ট্রাক সরানো, যান চলাচল পুনঃস্থাপন, তৎপর নজরদারি |
| প্রত্যক্ষদর্শীর মন্তব্য | যানজট ও আতঙ্ক, মানুষ ও গাড়ি নিরাপদ স্থানে অবস্থান |
| সামাজিক প্রভাব | অফিসগামী, স্কুলগামী ও সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে |
দূর্ঘটনার কারণে হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। তবে ট্রাফিক বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপ এবং পুলিশি তৎপরতার কারণে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আরও দ্রুত মোকাবিলা করার জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হবে এবং সাধারণ মানুষকে সময়মতো সতর্ক করার ব্যবস্থা থাকবে।