রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের বড় পালশা গ্রামে পুকুর খননকে কেন্দ্র করে এক মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম হয়েছে, যা এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এস্কেভেটর মেশিনের চাকার নিচে চাপা পড়ে জুবায়ের হোসেন (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ—এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা।
নিহত জুবায়ের হোসেন একই গ্রামের রফিজ উদ্দিনের ছেলে। পেশায় কৃষিকাজ করতেন তিনি এবং স্থানীয়ভাবে একজন পরিশ্রমী ও নিরীহ যুবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বুধবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে গ্রামের ফসলি জমিতে পুকুর খননের কাজ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, কৃষিজমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের উদ্যোগ নেওয়া হলে জুবায়েরসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা এর বিরোধিতা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের বেলা ভেকু দিয়ে পুকুর খনন চলাকালে এলাকাবাসীর সঙ্গে ভীমনগর গ্রামের কয়েকজন লোকের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। কথাকাটাকাটি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঠিক তখনই জুবায়ের এস্কেভেটরের কাছাকাছি চলে গেলে তিনি মেশিনটির নিচে পড়ে যান এবং মারাত্মকভাবে আহত হন।
নিহতের পরিবারের দাবি, জুবায়েরকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভেকুর চাকার নিচে ফেলে দেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, তিনি পুকুর খননে বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা জুবায়েরকে উদ্ধার করে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা ঘটনাস্থলে থাকা এস্কেভেটর মেশিনটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়িতে ছুটে যান মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতার। তিনি নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং পুরো ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেন। ইউএনও জানান, কৃষিজমিতে পুকুর খনন নিয়ে বিরোধ থেকেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন।
এদিকে পুলিশ ভেকু চালক আবদুল হামিদ (২৮)–কে আটক করেছে। তিনি টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা। মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম মঈনুদ্দীন জানিয়েছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে—কৃষিজমি রক্ষায় প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন কতটা নিরাপদ? প্রশাসনের নজরদারি ও আইনের কঠোর প্রয়োগ না হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যে থামবে না, সেটাই মনে করছেন সচেতন মহল।