মোস্তাফিজের ঝড়, এক ওভারে তিন উইকেট অর্জন

বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভক্তদের মন জয় করেছেন। মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত আইপিএল নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর ঠিক এক দিন পরই দুবাইয়ে তিনি আন্তর্জাতিক লিগ টি–টোয়েন্টি (আইএলটি–২০)-এ দুর্দান্ত বোলিং করে আলোচনায় চলে আসেন।

দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে খেলা মোস্তাফিজ এমআই এমিরেটসের বিপক্ষে ইনিংসের ১৮তম ওভারে একের পর এক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। তিনি এই ওভারে মাত্র ১ রান খরচ করেন এবং রশিদ খান, টম ব্যান্টন ও এএম গজনফরকে আউট করেন। এই ওভারটি মোস্তাফিজের জন্য ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়।

ম্যাচের শুরুটা মোস্তাফিজের জন্য কিছুটা কঠিন ছিল। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোলিং করতে এসে জনি বেয়ারস্টোর দুটি চার খেয়ে ১০ রান খরচ করেছিলেন। এরপর ১৬তম ওভারে ফেরার পর তিনি মাত্র ৬ রান খরচ করে কামিন্দু মেন্ডিস এবং ব্যান্টনকে নিয়ন্ত্রণে আনেন, সাথে ছিল একটি ওয়াইড বল।

তবে ১৮তম ওভার ছিল আসল চমক। প্রথম বলটি অফ কাটার, যা রশিদ খান মিড-অফে ক্যাচ দেন দাসুন শানাকার হাতে। তৃতীয় বল ছিল স্লোয়ার, ব্যান্টন মিডউইকেটে ক্যাচ দেন ডু প্লেয়ারের হাতে। পঞ্চম বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে গিয়ে গজনফর স্লিপে ক্যাচ দেন ডু প্লেয়ারের হাতে। মাত্র পাঁচ বলের মধ্যে তিনটি উইকেট শিকার করে মোস্তাফিজ ইনিংসের গতিপ্রকৃতি পুরোপুরি পরিবর্তন করে দেন।

ম্যাচের শেষ দিকে আরও উইকেট নেওয়ার সুযোগ ছিল, তবে চতুর্থ বলে রোমারিও শেফার্ড বাউন্ডারিতে ক্যাচ ফেলে দেন। চূড়ান্ত চার ওভারে মোস্তাফিজের বোলিং আউটপুট হলো ৩৪ রানে ৩ উইকেট। তার অসাধারণ বোলিং প্রতিভা দুই দলের খেলোয়াড় ও দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

ম্যাচে এমআই এমিরেটস ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৭ রান সংগ্রহ করে। তাড়া করতে নেমে দুবাই ক্যাপিটালস ২০ ওভারে ১৩০ রানে অলআউট হয় এবং ৭ রানে হারে। মোস্তাফিজ ১ রান করে রান আউট হন। তার পারফরম্যান্স দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও হারের কারণে হতাশার ছাপ ছিল।

মোস্তাফিজের বোলিং পরিসংখ্যান (সংক্ষেপে)

ওভাররানউইকেটবিশেষ মুহূর্ত
২য়১০জনি বেয়ারস্টোর ২ চার খাওয়া
১৬তমকামিন্দু মেন্ডিস ও ব্যান্টনকে নিয়ন্ত্রণ
১৮তমরশিদ খান, ব্যান্টন, গজনফর আউট
৪র্থ (শেষ)১৬একটি চার ও একটি ছয়, একটি মিসড ক্যাচ

মোস্তাফিজের এই অসাধারণ বোলিং কৌশল ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা তাকে আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার পারফরম্যান্স শুধু দুই দলের খেলোয়াড় নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্লেষক ও ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।