গুলিবিদ্ধ শরিফ ওসমান হাদির ঘটনায় ক্ষোভের বিস্ফোরণ, রাজপথে ছাত্রসমাজ

রাজধানীর রাজপথে সোমবার আবারও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক ছাত্রসমাজ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের একাধিক বাধার মুখে পড়ে। ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি শুরু হয় বেলা পৌনে ১২টার দিকে ডাকসু কার্যালয়ের সামনে থেকে। কর্মসূচির মূল দাবি ছিল—ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দেশব্যাপী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ছাত্রজনতা শুরু থেকেই স্লোগানে স্লোগানে রাজপথ মুখর করে তোলে। ‘গুলির বিচার চাই’, ‘অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কর’, ‘সন্ত্রাসের ঠিকানা—স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’—এমন নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস এলাকা। মিছিলটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে অগ্রসর হলে প্রথম বড় বাধার মুখে পড়ে দোয়েল চত্বরে। সেখানে পুলিশের স্থাপিত ব্যারিকেড ভেঙে আন্দোলনকারীরা সামনে এগিয়ে যান, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

এরপর হাইকোর্ট মাজারের সামনে আবারও পুলিশ বাধা দিলে ছাত্রজনতা দ্বিতীয় ব্যারিকেডও অতিক্রম করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো যায়। শেষ পর্যন্ত শিক্ষা ভবনসংলগ্ন সচিবালয়মুখী সড়কে আন্দোলনকারীদের আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে তারা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্লোগান দিতে থাকে।

এই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, “দেশে নির্বাচন আসলেই সন্ত্রাস মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আমরা আর কোনো গুলি, কোনো রক্ত দেখতে চাই না। যারা দেশকে অস্ত্রের রাজ্যে পরিণত করেছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।” তার নেতৃত্বে একটি ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেয়, যা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই কর্মসূচির পেছনে মূল অনুঘটক ছিল পুরানা পল্টনে সংঘটিত গুলির ঘটনা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরগামী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সোমবার দুপুরে ঢাকা ছাড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন কেবল একটি গুলির ঘটনার প্রতিবাদ নয়, বরং নির্বাচন-পূর্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ। ছাত্রসমাজের এমন সংগঠিত উপস্থিতি সরকারের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে—নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রশ্নে কোনো আপস গ্রহণযোগ্য নয়।