এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন বুঝতে হলে তাঁর ছাত্ররাজনীতির দিনগুলোতে ফিরে যেতে হয়। ষাটের দশকের পাকিস্তান শাসিত পূর্ববাংলায় ছাত্ররাজনীতি ছিল মূলত গণআন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র। সেই সময় চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেন একজন দূরদর্শী সংগঠক হিসেবে।
ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অসমাপ্ত থাকলেও বাস্তব রাজনীতির পাঠে তিনি হয়ে ওঠেন অনন্য। গণঅভ্যুত্থান, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি পর্বে তিনি ছিলেন সম্মুখসারিতে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ‘জয় বাংলা’ বাহিনী গঠন করে সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশ নেন।
পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়া তাঁর জীবনের এক ভয়াবহ অধ্যায়। কিন্তু সেখানেও তিনি ভেঙে পড়েননি। অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে পাগলের অভিনয় করে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে যান। এরপর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ নেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের একটি স্কোয়াডের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এই অধ্যায় প্রমাণ করে, মহিউদ্দিন চৌধুরীর কাছে রাজনীতি মানে ছিল আত্মত্যাগ। স্বাধীনতার পরও তিনি অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তাঁর প্রতিবাদী ভূমিকা এবং ‘মুজিব বাহিনী’ গঠনের ঘটনা তাঁকে আরও একবার ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। আত্মগোপন, মামলা, নির্বাসনের জীবন—সবকিছুই তিনি মেনে নিয়েছিলেন আদর্শের প্রশ্নে।
এই দীর্ঘ সংগ্রামের পথচলাই তাঁকে তৈরি করেছিল এক অনমনীয় নেতায়, যাঁর কাছে ক্ষমতার চেয়ে আদর্শ ছিল বড়।