হাদির চিকিৎসা বিষয়ে মেডিকেল টিমের ১১ সিদ্ধান্ত ও পর্যবেক্ষণ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার জটিলতা ও সংকটাপন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছে। এই মেডিক্যাল বোর্ডে মোট ১৫ জন অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যারা সমন্বিতভাবে ওসমান হাদির চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকি করছেন।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) এক বিবৃতির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউ অ্যান্ড এইচডিইউ বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর ডা. মো. জাফর ইকবাল। বিবৃতিতে তিনি জানান, গত শুক্রবার অপারেশন সম্পন্ন হওয়ার পর শরীফ ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকার ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাকে অপারেশন-পরবর্তী নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বিবৃতিতে মেডিক্যাল বোর্ডের পক্ষ থেকে হাদির বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। প্রথম পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ওসমান হাদির ব্রেন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেহেতু অপারেশন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, তাই এখন তাকে কনজার্ভেটিভ পদ্ধতিতেই ম্যানেজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্রেন প্রোটেকশন প্রোটোকল অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাপোর্ট অব্যাহত রাখতে হবে। শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে ব্রেনের রিপিট সিটি স্ক্যান করানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

দ্বিতীয় পর্যবেক্ষণে জানানো হয়, তার ফুসফুসে ইনজুরি রয়েছে এবং চেস্ট ড্রেইন টিউব দিয়ে অল্প পরিমাণ রক্ত বের হচ্ছে। এ কারণে ড্রেইন টিউব চালু রাখতে হবে। একই সঙ্গে ফুসফুসে সংক্রমণ এবং এআরডিএস যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থেকে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট চালিয়ে যেতে হবে।

তৃতীয় পর্যবেক্ষণে বলা হয়, হাদির কিডনির কার্যক্ষমতা ফিরে এসেছে। এই কার্যক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বর্তমানে যে ফ্লুইড ব্যালেন্স বজায় রাখা হচ্ছে, তা আগের মতোই চালু রাখতে হবে। চতুর্থ পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, শরীরে রক্ত জমাট বাঁধা ও রক্তক্ষরণের মধ্যে যে অসামঞ্জস্যতা বা ডিআইসি দেখা দিয়েছিল, তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে এই অবস্থা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করতে হবে এবং প্রয়োজনে রক্ত ও রক্তের বিভিন্ন উপাদান ট্রান্সফিউশন দিতে হবে।

পঞ্চম পর্যবেক্ষণে জানানো হয়, ব্রেন স্টেমে ইনজুরির কারণে তার রক্তচাপ ও হার্টবিটে ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে যেভাবে ব্লাড প্রেসারের সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে, তা অব্যাহত থাকবে। যদি হার্ট রেট অতিরিক্ত কমে যায়, সে ক্ষেত্রে টেম্পোরারি পেসমেকার লাগানোর জন্য মেডিক্যাল টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।

ষষ্ঠ পর্যবেক্ষণে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, রেডিওলজি, আইসিইউ, এনেসথেসিয়া, নিউরোসার্জারি এবং অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসক ও সাপোর্টিভ স্টাফদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়। সপ্তম পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে শরীফ ওসমান হাদির সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

অষ্টম পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এই সামারি রোগীর ভাই ও স্বজনদের বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং তারা চাইলে গণমাধ্যমের মাধ্যমে তার হালনাগাদ অবস্থা দেশবাসীকে জানাতে পারেন। একই সঙ্গে মেডিক্যাল টিমের পক্ষ থেকে হাদির জন্য সবার কাছে দোয়ার অনুরোধ জানানো হয়। নবম পর্যবেক্ষণে অযথা হাসপাতালে ভিড় না করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কোনো ভিজিটর এখানে অনুমোদিত নয়।

দশম পর্যবেক্ষণে অনুমানভিত্তিক বা ভুল তথ্য প্রচার না করে মেডিক্যাল বোর্ডের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানানো হয় এবং রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষায় সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়। একাদশ ও শেষ পর্যবেক্ষণে জানানো হয়, মেডিক্যাল টিম সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে শরীফ ওসমান হাদির চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য সবাইকে দোয়া করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।