ঢাকায় গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির গ্রামের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ওই বাড়িতে শুক্রবার দিবাগত রাতে চুরি হয়েছে, যা নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম নিশ্চিত করেছেন।
ওসি আরিফুল আলম জানান, ঘটনার সময় বাড়িতে পরিবারের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। প্রাথমিক ধারণা, চোরেরা একটি জানালা ভেঙে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রতিবেশী গোলাম কিবরিয়া রিয়াজ জানান, ভোররাতে নামাজের উদ্দেশ্যে বের হলে তিনি শরীফ ওসমান হাদির বাড়ির পেছনে দুজনকে দেখতে পান। সন্দেহ হলে তাদের দাঁড়াতে বললে তারা দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার কারণে স্থানীয়রা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
বাড়ি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রতিবেশী জান্নাতি আক্তার জানান, বাড়ির সামনে একটি গামছায় মোড়ানো টাকা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি বিষয়টি তার বড়বোন ফাতেমা বেগমকে জানান। পরে ফাতেমা বেগম বাসায় ঢুকে দেখতে পান একটি আলমারি ভাঙা। আলমারিতে থাকা নগদ টাকা চোরেরা নিয়ে গেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শরীফ ওসমান হাদির চাচাতো ভাই সিরাজুল ইসলাম বলেন, “কেউ না থাকার সুযোগে জানালা ভেঙে চোর ঘরে ঢোকে। কতটুকু মালামাল নেওয়া হয়েছে তা এখনো নির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।”
উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। তিনি তখন মতিঝিলের একটি মসজিদে প্রচার কার্যক্রম শেষে সতীর্থদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের উদ্দেশ্যে ব্যাটারি রিকশায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন। চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলের পেছনে বসা এক আততায়ী তার দিকে গুলি চালায়, যা তার মাথায় লাগে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয় এবং খুলি খুলে রেখে তাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে সেই দিনই পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় রওনা দেন। তারা হাসপাতালে অবস্থান করে চিকিৎসার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছেন। পুলিশও পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ঘটনার তদন্তে তৎপর রয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
