খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই ডিসেম্বর ২০২৫, ২:১২ পিএম
বাংলাদেশের বীমা শিল্পের নীতিনির্ধারণ ও তদারকিতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালনকারী সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ) তাদের ৩৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা আগামী ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, সোমবার, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে আয়োজন করতে যাচ্ছে। রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী সেন্টার (লেভেল–২)–এ অনুষ্ঠিতব্য এ গুরুত্বপূর্ণ সভায় দেশের বীমা খাতের সার্বিক নীতি, আর্থিক কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিআইএর সভাপতি, সহ-সভাপতি ও নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়, এবারের সভায় তিনটি প্রাধান্যপ্রাপ্ত আলোচ্যসূচি উপস্থাপন করা হবে। সেগুলো হলো—
১. ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন, আলোচনা ও অনুমোদন
২. ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণী অনুমোদন
৩. ২০২৫ সালের জন্য নতুন নিরীক্ষক নিয়োগ ও নির্ধারিত পারিশ্রমিক অনুমোদন
এছাড়া সদস্য কোম্পানিগুলোকে তিনজন করে প্রতিনিধির তালিকা— চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান বা পরিচালক এবং মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা— তাদের মোবাইল নম্বর ও ইমেইলসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিআইএ কার্যালয়ে প্রেরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির মতে, সুষ্ঠু আয়োজন ও যথাযথ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এ তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিআইএর সচিব সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে অনুরোধ জানিয়েছেন—
“নির্ধারিত তিনজন প্রতিনিধির সময়মতো অংশগ্রহণ নিশ্চিত করুন।”
বীমা খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি, বাজার ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা— সব মিলিয়ে এ বছরের সাধারণ সভাটি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অধিক তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বীমা খাতকে বেশ কিছু জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে—
দাবি নিষ্পত্তির দীর্ঘসূত্রতা
বিনিয়োগ ফেরতের অনিশ্চয়তা
নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর নীতি
প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার চাপ
এসব কারণে সদস্য কোম্পানির উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকরা এবারের সভায় আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, নিরীক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, গ্রাহকের আস্থা পুনর্গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জনের বাস্তবসম্মত কৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একজন বিশিষ্ট বীমা বিশ্লেষক মন্তব্য করেন—
“বার্ষিক সাধারণ সভা শুধু আর্থিক পর্যালোচনার জায়গা নয়; এটি বীমা খাতের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের কেন্দ্রস্থল, যেখানে আস্থা পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”
বীমা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশকে একটি আরও আধুনিক, শক্তিশালী এবং গ্রাহকবান্ধব বীমা বাজার গড়ে তুলতে এ বছরের সাধারণ সভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নীতি সংস্কার, ডিজিটাল সেবা বিস্তৃতি, দাবি নিষ্পত্তির গতি বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতের মাধ্যমে বীমা শিল্পকে টেকসই রূপ দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সামগ্রিকভাবে, বিআইএর ৩৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা দেশের বীমা খাতকে নতুন গতি ও দিকনির্দেশনা দেবে— এমনটাই বিশ্বাস করছেন শিল্প সংশ্লিষ্ট সবাই।
মন্তব্য