ব্রাজিল জাতীয় দলের সুপারস্টার নেইমার, যিনি আগের তিনটি বিশ্বকাপে দলের প্রাণভোমরা হিসেবে দাপট দেখিয়েছেন, এবার ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেলবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রধান সমস্যা হলো তার হাঁটুর মেনিসকাস চোট। বিশ্বকাপের মাত্র ছয় মাস আগে এই তারকা খেলোয়াড় একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা তার ভবিষ্যত খেলার জন্য निर्णায়ক হতে পারে।
আজ সকালে নেইমারের ক্লাব, সান্তোস লিগ, ক্রুজেইরোর বিপক্ষে তাদের শেষ ম্যাচে অংশ নিয়েছে। দলটি ৩–০ গোলের ব্যবধানে জয়ী হয়ে অবনয়ন থেকে নিজেকে রক্ষা করেছে। একই সঙ্গে এই জয়ের মাধ্যমে সান্তোস মহাদেশীয় প্রতিযোগিতা কোপা সুদামেরিকানায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে।
নেইমার ২৫ নভেম্বর হাঁটুর মেনিসকাসে চোট পান। সেই পরেও মাঠে অব্যাহত ছিলেন এবং ৫ গোল ও ১ অ্যাসিস্টের মাধ্যমে দলকে অবনমনের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন। আজ ম্যাচের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি ঘোষণা করেছেন যে, এবার অবশ্যই অস্ত্রোপচার করাতে হবে।
নেইমার সাংবাদিকদের বলেছেন,
“আমি এসেছি যতটা সম্ভব সাহায্য করার জন্য। এটি আমার জন্য কঠিন কয়েকটি সপ্তাহ ছিল। যারা আমাকে সমর্থন করেছে, তাদের ধন্যবাদ। তাদের সাহায্য ছাড়া আমি খেলা সম্ভব হত না। এখন বিশ্রাম প্রয়োজন, এরপর অস্ত্রোপচার হবে।”
২০১৩ সালের পর থেকে বিভিন্ন চোটের কারণে নেইমারের জাতীয় দলে খেলার সময় সীমিত হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে চোট পাওয়ার পর থেকে তিনি জাতীয় দলে খেলতে পারেননি। ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, নেইমারকে জাতীয় দলে ফিরে খেলতে হলে পুরোপুরি ফিট থাকতে হবে।
নেইমারের সাম্প্রতিক চোট ও পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| চোটের ধরন | হাঁটুর মেনিসকাস চোট |
| চোটের তারিখ | ২৫ নভেম্বর ২০২৫ |
| ক্লাব | সান্তোস লিগ |
| শেষ ম্যাচের ফলাফল | সান্তোস ৩–০ ক্রুজেইরো |
| অবদানের পরিমাণ | ৫ গোল, ১ অ্যাসিস্ট |
| অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন | হ্যাঁ, অবিলম্বে |
| জাতীয় দলে ফিরে খেলার অবস্থা | পূর্ণ ফিটনেস প্রয়োজন |
| কোচের মন্তব্য | “পুরোপুরি ফিট না হলে জাতীয় দলে ফিরে খেলা সম্ভব নয়” |
নেইমারের এই অবস্থার ফলে ব্রাজিল দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তার অভিজ্ঞতা ও খেলার দক্ষতা দলের জন্য অপরিহার্য, তবে বর্তমান চোটের কারণে সম্ভাব্য প্রতিযোগিতার খেলা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এখন নেইমারের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত এবং সঠিকভাবে পুনরুদ্ধার করে মাঠে ফিরা।