ডিজিটাল ট্রাইবালিজম ও ভাইরাল সংস্কৃতি: নারী ভিকটিমের দৃষ্টিকোণ

কোনো ধারাবাহিক সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হলে মানুষ তার কারণ নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে শুরু করে। চিন্তাভাবনা ব্যক্তি ‘আমি’ থেকে সামষ্টিক ‘আমরা’ পর্যন্ত প্রসারিত হয়।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা এবং একজন নারী হিসেবে মূল্যায়ন-অবমূল্যায়ন আমাদের চারপাশকে নতুনভাবে দেখার প্রয়োজন তৈরি করেছে। এই প্রয়োজন থেকেই লেখাটি রচিত।

মানুষ ইতিহাসের দ্রুতগতির একটি সময় পার করছে। প্রযুক্তি জীবনের সবখানেই প্রবেশ করেছে। নতুন সম্ভাবনা ও উচ্ছ্বাসের সঙ্গে ভয় ও যন্ত্রণার নতুন উপকরণও যুক্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ প্রভাবশালী।

২০১০ সালের আরব বসন্তে ফেসবুকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এটি মানুষের শিক্ষাগত, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে একই জায়গায় আনে। পৃথিবীর বিভিন্ন আন্দোলনে ফেসবুকের প্রভাব স্পষ্ট। বাংলাদেশে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পতনেও তরুণ নেতৃত্বের আন্দোলনে ফেসবুক বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

কিন্তু আন্দোলনের পর আবেগের ধাক্কা কাটার সঙ্গে সামাজিক মিডিয়ায় রুচিহীন দিক প্রকাশ পায়। নৃতত্ত্ব এবং ফ্রয়েডীয় মনোবিশ্লেষণ অনুযায়ী, অনেক মানুষের মধ্যে ‘অবদমিত কামনা’ বিদ্যমান, যা নারীদের ওপর প্রভাব ফেলে।

পরিচিত কোনো নারী সামাজিক মিডিয়ায় লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়েন। ভাইরাল সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় ভিকটিম নারীরা। অনলাইন গোষ্ঠী তৈরি হয়, ভালো কাজের জন্য যেমন পেজ বা গ্রুপ তৈরি হয়, তেমনি অবদমিত আকাঙ্ক্ষা থাকা মানুষও তাদের বলয় তৈরি করে। কেউ কারও ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, বিবেচনা ছাড়া ভিডিও বা সাক্ষাৎকার ভাইরাল হয়।

এই অন্যায় কর্মকাণ্ড নারীর মানসিক অবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলে। লেখকও গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার সময় অনভিপ্রেত ঘটনার শিকার হয়েছেন। টকশোতে আলোচনার পর সামাজিক মিডিয়ায় তার নাম এবং ক্লিপ ভাইরাল হয়।

প্রথমে প্রশংসা আসলেও পরবর্তীতে নারী হওয়ায় তাকে নানা রকম হেনস্তার মুখোমুখি হতে হয়। তার কৈশোরকালীন সাক্ষাৎকার ও ভিডিও মিশিয়ে বয়স নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। ডিজিটাল ট্রাইবালিজম তার জীবনের ভালো-মন্দ উপেক্ষা করেছে।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশে একজন পুরুষ সহজে জীবনের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে, একজন নারী তা পারা কঠিন।

জিলাইভ২৪/এসএস