নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মোবাইল ফোন ও জনপ্রিয় অনলাইন গেম ফ্রি ফায়ার আইডি কেনার জন্য তিন কিশোর তাদের নিজ বাড়িতে ডাকাতির নাটক সাজিয়েছে। পুলিশ তদন্তের পর সোমবার (৬ ডিসেম্বর) তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে।
গ্রেপ্তার কিশোররা হলো:
| নাম | পিতা | শ্রেণি | বিদ্যালয় |
|---|---|---|---|
| শাহরিয়ার | আব্দুর রশিদ | অষ্টম শ্রেণি | কাঞ্চন ভারত চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় |
| নাবিল | হানিফ মিয়া | নবম শ্রেণি | কাঞ্চন ভারত চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় |
| শাহ আলম | আলী হোসেন | ষষ্ঠ শ্রেণি | কাঞ্চন ভারত চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় |
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে শাহ আলম নতুন মোবাইল ফোন কেনার জন্য পরিবারের কাছে টাকার উৎস জানতে চাওয়া হয়। বিষয়টি জানা স্থানীয়দের নজরে আসার পর তারা কিশোরদের আটক করে এবং মারধর করে। পরে কিশোররা স্বীকার করে যে, তারা মোবাইল ও ফ্রি ফায়ার গেম আইডি কেনার জন্য নিজেদের বাড়িতে ডাকাতির দৃশ্যকল্প তৈরি করেছে। পুলিশ তাদের কাছ থেকে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং দুই ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে, যা পরে পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।
রূপগঞ্জ থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, “গত ২৪ নভেম্বর কাঞ্চনে এক কিশোরকে বাধ্য করে আলমারি ভেঙে ১০ লাখ টাকা এবং ১০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে। এই ঘটনায় কিশোরের বাবা থানায় মামলা দায়ের করেন। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার কিশোররা স্বীকার করেছে, তাদের উদ্দেশ্য নতুন মোবাইল ও গেম আইডি কেনা ছিল।”
এক কিশোরের বাবা জানান, তার ছেলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। খারাপ বন্ধুত্বের কারণে সে ভুল পথে গেছে। মোবাইল ফোন ও গেমের জন্যই এই নাটক সাজানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “শিশুরা বর্তমানে প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী হলেও কখনও কখনও এটি তাদের ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে।”
এই ঘটনার মাধ্যমে বিশেষভাবে তিনটি বিষয় সামনে এসেছে:
প্রযুক্তির প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ – কিশোরদের মোবাইল ও গেম খেলার জন্য বাস্তব জীবনের মূল্যায়ন কমে যাচ্ছে।
বন্ধুত্বের প্রভাব – খারাপ সঙ্গ দোষপ্রবণ আচরণের অন্যতম কারণ হতে পারে।
পরিবার ও সমাজের ভূমিকা – শিশু ও কিশোরদের সঠিক মূল্যবোধ ও ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়াই মূল প্রতিরোধ।
মোবাইল ও গেমের প্রতি আকর্ষণের কারণে কিশোরদের এমন ঘটনা সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা আবারও তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উচিত কিশোরদের প্রযুক্তি ব্যবহার ও অর্থনৈতিক দায়িত্ববোধ শেখানো, যাতে তারা ভুল পথে না যায়।
