ছয় দলিল বাতিল পরিকল্পনা

বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় বহুল আলোচিত জালিয়াতি, জাল দলিল ও জমি দখল সমস্যার সমাধানে সরকার ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ছয় ধরনের দলিল বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের মতে, দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খল ভূমি খাতকে স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, যেসব দলিলে আইনগত ত্রুটি, প্রতারণা বা জালিয়াতি পাওয়া যাবে, সেগুলোকে আর কোনোভাবে বৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে না। এসব দলিল বাতিলের পর মালিকানা দাবি করলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

বাতিলের আওতায় আসা দলিলগুলো

১. হেবা দলিল: প্রতারণা বা ভুল তথ্য দিয়ে তৈরি দলিল অকার্যকর হবে।
২. ওসিয়তনামা: এক-তৃতীয়াংশের বেশি সম্পত্তি ওসিয়ত করলে তা বাতিল হবে।
৩. রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই তৈরি দলিল: কোনো অবস্থাতেই বৈধ ধরা হবে না।
৪. জাল দলিল: নকল কাগজ, ভুয়া স্বাক্ষর বা নথি ব্যবহার করে তৈরি দলিল।
৫. ক্ষমতার অপব্যবহারে নেওয়া দলিল: প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের ঘটনা।
৬. নিজ অংশের চেয়ে বেশি বিক্রির দলিল: যৌথ সম্পত্তিতে অতিরিক্ত অংশ বিক্রি হলে তা বাতিল।

ভূমি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে জমি দখল, দ্বৈত মালিকানা, ভুয়া ওয়ারিশ দাবি—এসব সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। কারণ দেশে বড় অংশের আদালত মামলা ভূমি নিয়ে।

ডিজিটাল সিস্টেমে রূপান্তর

২০২৬ সালের জুলাই থেকে শুরু হবে ডিজিটাল ভূমিজরি বিডিএস সিস্টেম। এতে দেশের সব বৈধ দলিল অনলাইনে সংরক্ষিত থাকবে। নাগরিকরা ঘরে বসেই দলিল যাচাই ও মালিকানা নিশ্চিত করতে পারবেন। এটি ভূমি খাতে দুর্নীতি কমাবে এবং জাল দলিল তৈরি প্রায় অসম্ভব করবে।

সরকার মনে করে, এই রূপান্তর ভূমি প্রশাসনকে শুধু প্রযুক্তিনির্ভরই করবে না, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে—যা ভবিষ্যতের ভূমি ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।