যুক্তরাজ্য আবারও অবৈধ অভিবাসন ও অবৈধ শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে নভেম্বর মাসে একটানা সাত দিনের বিশেষ জাতীয় অভিযানে বিভিন্ন শহর ও এলাকায় হোম অফিসের নির্দেশনায় পরিচালিত তল্লাশিতে বাংলাদেশি, ভারতীয়, চীনা, পাকিস্তানি এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকসহ মোট ১৭১ জন ডেলিভারি ড্রাইভারকে আটক করা হয়। এর মধ্যে যাচাই–বাছাই শেষে অন্তত ১৬০ জনের অবৈধভাবে কাজ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশিও রয়েছেন। বৃটিশ গণমাধ্যম স্কাই নিউজ–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক ৬০ জনকে ইতোমধ্যেই নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
Table of Contents
হোম অফিসের কঠোর অবস্থান: লক্ষ্য ছিল অবৈধ শ্রমিকরা
হোম অফিসের এই অভিযান ‘ডিগ ইকোনোমি’ অর্থাৎ ছায়া বা অনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানেরই অংশ। নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ দায়িত্ব নিয়েই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—অবৈধভাবে কাজ কিংবা অবস্থানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।
ব্রিটেনে ডেলিভারি সেক্টরে কয়েক বছর ধরে দ্রুত কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেলেও একই সঙ্গে বেড়েছে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ, ভুয়া নথি ব্যবহার করা বা অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের কাজের হার। এই পরিস্থিতি সরকারকে আরও সতর্ক করেছে।
ডেলিভারি কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বৃদ্ধির ঘোষণা
বর্ডার সিকিউরিটির মন্ত্রী অ্যালেক্স নরিস ডেলিভারি ও কুরিয়ার সেক্টরের বড় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি স্পষ্ট জানান—অবৈধ কর্মী ব্যবহারের দায় শুধু ব্যক্তির নয়, দায়িত্বহীন নিয়োগদাতার ওপরও বর্তায়।
তিনি প্রস্তাব দেন, ডেলিভারি ড্রাইভারদের পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি আরও কঠোর ও স্বচ্ছভাবে ব্যবহার করতে হবে। কারণ অনেকেই ভাড়ায় অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বা নকল ডকুমেন্ট দিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজ করছিলেন।
অ্যালেক্স নরিস বলেন,
“নভেম্বরের এই বিশেষ অভিযান একটি পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে — আপনি যদি ব্রিটেনে অবৈধভাবে কাজ করেন, আপনাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।’’
বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু
হোম অফিস জানায়, আটক ১৭১ জনের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে অবৈধ কাজের প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদেরই প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
এই তালিকায় বাংলাদেশের দুই নাগরিকও রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতা চলছে।
ডেলিভারি সেক্টরে অবৈধ কর্মীদের চিত্র
গত কয়েক বছরে যুক্তরাজ্যে ‘গিগ ইকোনোমি’ বা স্বল্পমেয়াদি অনলাইন–ভিত্তিক কাজকে কেন্দ্র করে পরিচিত ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। কোভিড–পরবর্তী সময়ে খাবার, মুদিপণ্য ও কুরিয়ার ডেলিভারিতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক বিদেশি কর্মী এই সেক্টরে যুক্ত হন।
তবে অনেকেই ছাত্র ভিসার সময়সীমা না মানা, আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বাড়তি কাজ করা বা সম্পূর্ণ ভিসাবিহীন অবস্থানে অবৈধভাবে কাজ করার কারণে আইনের আওতায় আসেন।
সরকারের কঠোরতার প্রভাব
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও নিয়মিত হবে। এর ফলে অবৈধ শ্রমিক নিয়োগকারী নিয়োগদাতাদের ওপরও অতিরিক্ত নজরদারি থাকবে—যার ফলে পুরো সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপ বিদেশিদের জন্য নতুন বার্তা—কাজের সুযোগ রয়েছে, তবে বৈধতার বাইরে গেলে এর ফলশ্রুতি কঠিন হতে পারে।
