ফরিদপুর: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পূর্ব সদরদী এলাকায় শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী রয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় একটি অটোরিকশা এবং বরিশালগামী একটি দ্রুতগামী বাস মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভাঙ্গা থেকে চুমুরদী যাওয়ার পথে অটোরিকশাটি অন্যান্য যানবাহনকে অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। ঠিক সেই সময় দ্রুতগতির বাসটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়, যার ফলে তিনজন যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনার মুহূর্তটি স্থানীয়দের মতে অত্যন্ত ভয়ঙ্কর এবং তাৎক্ষণিকভাবে এলাকার পরিবেশ চরম আতঙ্কে ভরে ওঠে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। আহত বা প্রাণ হারানো যাত্রীদের জন্য জরুরি প্রাথমিক সহায়তা প্রদান করা হয়। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ সোহেল বলেন, “এই সড়ক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজন নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং নিহতদের পরিচয় এখনও চিহ্নিত করা যায়নি।”
স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তারা জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং রাস্তার পাশে দাঁড়ানো বা দুর্ঘটনার স্থান থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কটি দেশের অন্যতম ব্যস্ততম জাতীয় সড়ক। এখানে দীর্ঘ সময় ধরে দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনার হার অনেক বেশি। বিশেষ করে অটোরিকশা ও ছোট গাড়ি দ্রুতগতির বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের দুর্ঘটনা রোধে সড়ক নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ এবং যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য।
উল্লেখ্য, ভাঙ্গা উপজেলার পূর্ব সদরদী এলাকায় এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রথম নয়। গত বছরও একই সড়কে কয়েকটি মারাত্মক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে একাধিক মানুষ আহত বা নিহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন এবং সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাস ও অটোরিকশার চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হতে পারে। দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত চালানো হচ্ছে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, ভবিষ্যতে সড়কের নানান ঝুঁকিপূর্ণ অংশে হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হবে এবং যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সতর্কতা বৃদ্ধি পাবে, যাতে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা পুনরায় না ঘটে।
