সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বুড়দেও গ্রামে চোর সন্দেহে এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী যুবককে গাছে ঝুলিয়ে নির্যাতন করার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে সংঘটিত এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ঘটনা ধরা পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও ছবির মাধ্যমে।
নির্যাতিত যুবকের নাম জালাল মিয়া (২৫)। তিনি ওই গ্রামের মৃত আলী আকবরের ছেলে এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। তার মা শিরিয়া বেগম কোম্পানীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার মূল প্ররোচক ছিলেন গ্রামের ইউনূস আলী ও তার ছেলে আরফান আলী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভোরে ইউনূসের জামার পকেট থেকে টাকা হারানোর পর তারা জালালকে চোর সন্দেহে আটক করেন। পরে নদীর নৌকায় ঘুমন্ত অবস্থায় জালালকে ধরে, তাকে বেঁধে গাছের ডালে ঝুলিয়ে মারধর করা হয়।
জালাল নিজে পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তিনি ওই সময় ঘুমিয়ে ছিলেন। তবে ইউনূস আলী ও তার ছেলে তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় ধরে বেঁধে নিয়ে গাছের ডালে ঝুলিয়ে নির্যাতন চালান।
পুলিশের পদক্ষেপ
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি রতন শেখ গণমাধ্যমকে বলেন, জালালের মা অভিযোগ জানালে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে। এছাড়া, গ্রেপ্তার করা হয়েছে **আরফান আলী (৪২)**কে। ওসি আরও জানান, ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদেরকেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত নয়, বরং গ্রামের সন্দেহ ও ক্ষোভ থেকে তা ঘটেছে। তবে এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিচের টেবিলে ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা স্থান | দক্ষিণ বুড়দেও গ্রাম, কোম্পানীগঞ্জ, সিলেট |
| ঘটনা তারিখ ও সময় | বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, দুপুর |
| নির্যাতিত ব্যক্তি | জালাল মিয়া (২৫), দৃষ্টি প্রতিবন্ধী |
| ঘটনার অভিযোগকারী | শিরিয়া বেগম (জালালের মা) |
| অভিযুক্ত ব্যক্তি | আরফান আলী (৪২), ইউনূস আলী ও অন্যান্য |
| ঘটনার বিবরণ | চোর সন্দেহে ঘুমন্ত অবস্থায় ধরে গাছে ঝুলিয়ে মারধর |
| পুলিশি পদক্ষেপ | আহত যুবককে উদ্ধার ও চিকিৎসা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, অন্যদের অনুসন্ধান চলছে |
প্রত্যক্ষদর্শীরা ও স্থানীয়রা এই ধরনের স্বেচ্ছাচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা শাস্তির আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীসহ সাধারণ মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘটনা বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় মানবাধিকার সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেছে।
