কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় দিনশেষের নীরবতা ভেদ করে হঠাৎ বন্দুকের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পিয়ারপুর ইউনিয়নের পচাভিটা গ্রামে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে গ্রামের এক চায়ের দোকানে বসা অবস্থায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় কৃষক রফিক ইসলামকে (৫৫)। একই ঘটনায় আরও দুজন গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ হন। এলাকাবাসী সহ স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটিকে একটি পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছে।
Table of Contents
ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল?
পুলিশ ও স্থানীয়দের বর্ণনায় জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে পচাভিটা গ্রামের জনপ্রিয় একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন রফিক ইসলাম। হঠাৎ করে দুটি মোটরসাইকেলে চার থেকে পাঁচজন মুখোশধারী বা অপরিচিত যুবক সেখানে আসে। তাদের একজন খুব দ্রুত পিস্তল বের করে রফিকের দিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলি গিয়ে সরাসরি তাঁর বুকে লাগে এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যু ঘটে।
এ দৃশ্য দেখে চায়ের দোকানে থাকা কয়েকজন গ্রামবাসী দুর্বৃত্তদের ধরতে ধাওয়া দেন। দুর্বৃত্তরা পালানোর সময় এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে এবং এতে গুলিবিদ্ধ হন একই গ্রামের রবজেল ফরাজি (৫২) ও ইউসুফ হোসেন (৫৫)। তাঁদের দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হত্যার উদ্দেশ্য কী? সন্দেহ ঘুরছে লেনদেন ও পুরোনো বিরোধে
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত পরিকল্পিত। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, “রফিক ইসলামের বুকে গুলির চিহ্ন স্পষ্ট। লক্ষ্য করে এক গুলিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হলো তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্রে টাকা–পয়সা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ বা পুরোনো শত্রুতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও তদন্তের আগে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
সমাজে প্রভাব: আতঙ্কে গ্রামবাসী
ঘটনার পর পচাভিটা গ্রামে আতঙ্ক নেমে এসেছে। গ্রামবাসী বলছেন, প্রকাশ্যে এমন হত্যাকাণ্ড এই এলাকায় বিরল। দিনের আলো ফুরোনোর সঙ্গে সঙ্গে যারা চায়ের দোকানে বসে সামান্য সময় কাটান, তারাও এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেকে মনে করছেন, এলাকায় অস্ত্রধারী সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় হয়ে থাকতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ
পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, স্থানীয় শত্রুতা—সব দিক পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। তবে গ্রামে যে ভয় ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে বলেই স্থানীয়রা মনে করছেন।
