মার্কিন পপ সংগীতশিল্পী সাব্রিনা কার্পেন্টারের গান জুনো ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস যে রাজনৈতিক বার্তা প্রচার করেছে, তা কেন্দ্র করে বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। ২০২৪ সালের শর্ট এন সুইট অ্যালবামের এই গানটি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে আইস অভিযান নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও প্রকাশ করলে তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, আইস কর্মকর্তা দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে এবং সাথে বাজছে কার্পেন্টারের গান। এই ব্যবহারকে অনৈতিক বলে মন্তব্য করেন শিল্পী নিজেই।
কার্পেন্টার স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই ভিডিও অমানবিক এবং ভয়ংকর। তিনি বলেন, তাকে বা তার সংগীতকে মানবতাবিরোধী নীতির সঙ্গে যুক্ত করা যাবে না এবং তার গান এমন কোনো বার্তা প্রচারে ব্যবহার করা চলবে না, যা মানুষের প্রতি অবমাননাকর আচরণকে সমর্থন করে। তার বক্তব্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ তীব্রতা পায়।
হোয়াইট হাউস ওই ভিডিওর ক্যাপশনে গান থেকে উদ্ধৃত করে লিখেছিল: হ্যাভ ইউ এভার ট্রায়েড দিস ওয়ান? বাই-বাই। এ নিয়ে বাড়তে থাকা সমালোচনার জবাবে প্রশাসনের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন পাল্টা বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, বিপজ্জনক অপরাধী অবৈধ হত্যাকারী, ধর্ষণকারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের দেশ থেকে বহিষ্কার করার জন্য তারা কখনও ক্ষমাপ্রার্থনা করবে না। বরং যারা এসব অপরাধীদের পক্ষ নেয়, তাদেরই প্রশ্ন করা উচিত।
এদিকে শিশুতোষ চরিত্র ফ্র্যাঙ্কলিন দ্য টার্টলের প্রকাশক কিডস ক্যান প্রেসও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ–এর করা একটি পোস্টে দেখা যায়, ফ্র্যাঙ্কলিনকে অস্ত্র হাতে এমনভাবে দেখানো হয়েছে যেন সে একটি নৌকার দিকে আক্রমণ চালাচ্ছে। ছবিটি পরিবর্তিত ছিল এবং প্রকাশকের অনুমতি ছাড়া ব্যবহৃত হয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, চরিত্রটি সদয়তা, সহমর্মিতা ও অন্তর্ভুক্তির প্রতীক, যার চিত্র সহিংসভাবে ব্যবহার করা তাদের মূল মূল্যবোধের পরিপন্থী।
এই ঘটনার সাথে আরও জড়িত রয়েছে হেগসেথের বিরুদ্ধে চলমান অভিযোগ। বলা হচ্ছে, সেপ্টেম্বর মাসে ক্যারিবীয় সাগরে একটি মাদক চোরাচালানকারী নৌকায় হামলায় দু’জন জীবিত বেঁচে থাকলেও তাদের ওপর দ্বিতীয় একটি আক্রমণের নির্দেশ তিনি নাকি দিয়েছিলেন। বিষয়টি সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্তের দাবি তুলেছে।
এমনভাবে শিল্পীদের কাজ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের ঘটনা এখন আর নতুন নয়। এর আগে গায়ক কেনি লোগিন্স দাবি করেন তার ডেঞ্জার জোন গান ট্রাম্পের প্রচারণায় এআই–সম্পাদিত ভিডিওতে ব্যবহারে তিনি রাজি নন। সেলিন ডিওন ও বিয়ন্সেও তাদের গানের অননুমোদিত ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন।
তবে বিপরীত দৃষ্টান্তও আছে। ভিলেজ পিপল ব্যান্ডের সদস্য ভিক্টর উইলিস পরিষ্কারভাবেই ট্রাম্পকে সমর্থন করেন এবং জানান যে ওয়াইএমসিএ গানটি ট্রাম্প প্রচারণার জন্য ব্যবহার করা তার কাছে গ্রহণযোগ্য।
নিচে ঘটনাগুলো সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ব্যবহৃত গান | সাব্রিনা কার্পেন্টারের জুনো |
| ভিডিওর বিষয় | আইস অভিযান |
| শিল্পীর অভিযোগ | মানবতাবিরোধী প্রচারে সংগীত ব্যবহার |
| হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া | বহিষ্কার নীতিতে ক্ষমাপ্রার্থনা নয় |
| সঙ্গী বিতর্ক | ফ্র্যাঙ্কলিন চরিত্রের সহিংস ছবি |
