নান্দাইলে মানববন্ধন: আবুল সরকারের ফাঁসির দাবি

ময়মনসিংহের নান্দাইলে পবিত্র কুরআন ও মহান আল্লাহতায়ালার শানে কটূক্তির অভিযোগে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং ফাঁসির দাবিতে মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মানববন্ধন আয়োজন করে ইত্তেফাকুল উলামা নান্দাইল শাখা ও তৌহিদী জনতা, যা ইসলাম ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়।

মানববন্ধন সকাল ১১টায় নান্দাইল উপজেলা চত্বরে শুরু হয়। এতে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলিম, ইসলামিক দলের নেতৃবৃন্দ, মাদ্রাসার ছাত্র ও সাধারণ জনতা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, আবুল সরকার পবিত্র কুরআন ও মহান আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা ইসলাম ধর্ম ও মুসলমান সমাজের জন্য অসম্মানজনক। তারা অভিযুক্তের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন মুফতি ইব্রাহিম কাসেমী, যিনি অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাওলানা মো. ওলিউল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা বক্তব্য রাখেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

নামপদবী/সংগঠনভূমিকা
মাওলানা শামসুল ইসলাম রহমানীবাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ময়মনসিংহ জেলা উত্তর, নান্দাইল আসনের এমপি প্রার্থীবক্তব্য রাখেন
মাওলানা গোলাম মোস্তফাসাধারণ সম্পাদক, স্থানীয় ধর্মীয় সংস্থাবক্তব্য রাখেন
মাওলানা রুহুল আমিনইসলামিক নেতাবক্তব্য রাখেন
মাওলানা মুফতি খাদেমুল ইসলামইসলামিক নেতাবক্তব্য রাখেন
মাওলানা হামিদুজ্জামানইসলামিক নেতাবক্তব্য রাখেন
মাওলানা আল আমিন বিন কাসেমইসলামিক নেতাবক্তব্য রাখেন
মাওলানা মুফতি নাসির উদ্দিনইসলামিক নেতাবক্তব্য রাখেন

বক্তারা মানববন্ধনে আরও বলেন, ধর্মীয় চেতনার সঙ্গে আপোষ করা যায় না এবং ধর্মীয় অনুভূতির অবমাননার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান প্রদান করেন, যেমন “কুরআন আমাদের অহংকার”, “ধর্ম অবমাননার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড”, এবং “ইসলামের অম্লান মর্যাদা রক্ষা করতে হবে”।

মানববন্ধনের সমাপ্তি হয় বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে। মিছিলকারীরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে দাবি জানান যে, এই ধরনের অপরাধে অভিযুক্তকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।

উপস্থিত ধর্মপ্রাণ জনতা ও ইসলামী নেতারা এসময় প্রতিজ্ঞা করেন, ধর্মীয় অনুভূতির রক্ষায় তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং ধর্ম অবমাননার ঘটনা যেন ভবিষ্যতে পুনরায় ঘটতে না পারে, তার জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।

মানববন্ধনের আয়োজকরা আরও জানান, তারা স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে আবেদন জানাবেন যাতে আইন অনুযায়ী অভিযুক্তকে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়