রাহুল ও সোনিয়ার অর্থপাচার মামলায় নতুন বাঁক

ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে নতুন এক ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করা হয়েছে। এটি ন্যাশনাল হেরাল্ড অর্থপাচার মামলার প্রেক্ষাপটে নতুন একটি এফআইআরের অংশ। দিল্লি পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা (Economic Offences Wing) এই এফআইআর দায়ের করেছে। মামলাটি রাহুল ও সোনিয়ার সঙ্গে আরও চারজন ব্যক্তি এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র), ৪০৩ (অসৎভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ), ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গের শাস্তি), এবং ৪২০ (প্রতারণা) ধারায় মামলা করা হয়েছে। এফআইআরে রাহুল ও সোনিয়ার নামের পাশাপাশি কংগ্রেস নেতা সুমন দুবে, শ্যাম পিত্রোদার এবং কিছু প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ইয়ং ইন্ডিয়ান, ডটেক্স মার্চেন্ডাইস লিমিটেড, ডটেক্সের প্রোমোটার সুনীল ভান্ডারি, অ্যাসোসিয়েটেড জার্নাল লিমিটেড এবং কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি।

ইডি গত এপ্রিল মাসে আদালতে চার্জশিট জমা করেছিল। চার্জশিটে রাহুল ও সোনিয়ার নামের পাশাপাশি অন্যদের নামও রয়েছে। তবে আদালত এখনো চার্জশিট গ্রহণ করেনি। পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ১৬ ডিসেম্বর। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ইডির তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে এবং জানিয়েছে, রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই এই মামলা করা হচ্ছে।

ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকাটি জওহরলাল নেহরু প্রতিষ্ঠিত। পত্রিকাটি আগাগোড়াই কংগ্রেস পরিচালিত। ২০০৮ সালে ইংরেজি দৈনিকটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। তবে ২০১৬ সালে ডিজিটাল সংস্করণ শুরু হয়।

২০১২ সালে বিজেপি নেতা সুব্রামানিয়াম স্বামী ন্যাশনাল হেরাল্ডের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা করেছিলেন। অভিযোগ অনুসারে, গান্ধী পরিবার কংগ্রেস দলের তহবিল ব্যবহার করে এজেএল সংস্থার কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করেছে। এজেএলের ৫ হাজার কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি ইয়ং ইন্ডিয়ান সংস্থা মাত্র ৫০ লাখ টাকায় অধিগ্রহণ করে। সেই সংস্থার ৭৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক সোনিয়া ও রাহুল, প্রত্যেকে ৩৮ শতাংশ শেয়ার রাখেন।

অধিগ্রহণের ফলে এজেএলের ৯০ কোটি টাকার দেনা ইয়ং ইন্ডিয়ানের ওপর চলে আসে। এছাড়াও দিল্লি, মুম্বাই, লক্ষ্ণৌ, পাটনা, ভোপাল, ইন্দোরসহ বিভিন্ন শহরে থাকা স্থাবর সম্পত্তি তাদের হাতে আসে। অধিগ্রহণের পর কংগ্রেস ৯০ কোটি ঋণ মওকুফ করে দেয়।

এই নতুন ষড়যন্ত্র মামলার ফলে গান্ধী পরিবারের রাজনৈতিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ড পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। মামলার প্রসঙ্গ এবং সংস্থাগুলোর মালিকানা কাঠামো রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র করে তুলেছে। ভবিষ্যতে আদালতের সিদ্ধান্ত কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে নজরকাড়া বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।