কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়ায় ছয়জন শিশু–কিশোরকে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা অপহরণ করেছে। শিশুদের মধ্যে দুজন কৌশলে পালাতে সক্ষম হলেও বাকি চারজন এখনও জিম্মি রয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শিলখালী পূর্বপাড়ায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হাফেজ আহমদ জানিয়েছেন, শিশু–কিশোররা খেলার মাঠে খেলছিল। সেই সময় পাহাড় থেকে নেমে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত অস্ত্রের মুখে তাদের ধরে নিয়ে গভীর পাহাড়ে নিয়ে যায়। অপহৃতদের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।
হাফেজ আহমদ বলেন, “স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে অবহিত করেছেন। আমরা এবং পুলিশ মিলে পাহাড়ে তল্লাশি চালাচ্ছি। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চারজনের খোঁজ মেলেনি। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই অপহরণ ঘটানো হয়েছে।”
বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস জানান, পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, “রাত ৯টা ৩০ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আমরা অপহৃতদের উদ্ধারে কাজ চালাচ্ছি। তবে পাহাড়ি এলাকায় উপস্থিতির কারণে কাজটি কিছুটা জটিল হচ্ছে।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফে গত ২১ মাসে ২৭২ জনকে অপহরণ করা হয়েছে। অধিকাংশই মুক্তিপণ পরিশোধের মাধ্যমে ফিরে এসেছে। অপহরণকারীরা সাধারণত অর্থলাভের উদ্দেশ্যে এই অপরাধ ঘটায়, তবে কখনও কখনও স্থানীয় সম্প্রদায়ের উপর ভীতি সৃষ্টি করাই লক্ষ্য থাকে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশুদের এমনভাবে অপহরণ সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। সীমান্তবর্তী এবং পাহাড়ি অঞ্চলে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তা বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে এবং স্থানীয় কমিউনিটিকে সচেতন করতে হবে।
এ ধরনের অপহরণ শুধু ব্যক্তিগত বা পরিবারের জন্যই নয়, বরং একটি সামাজিক সংকটের দিকে ইঙ্গিত করছে। অপরাধীরা সাধারণত আগে থেকেই পরিকল্পনা করে শিশুদের অপহরণ করে এবং মুক্তিপণ দাবি করে। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকা এবং পুলিশি তৎপরতার সমন্বয় অপরিহার্য।
এই ঘটনা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নজরদারি এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব।
