ভিডিও বানাতে গিয়ে আগুনে দগ্ধ ময়মনসিংহের কনটেন্ট ক্রিয়েটর

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য শীতকালীন ভিডিও নির্মাণ করতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. আল আমিন। তিনি বর্তমানে বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যেখানে তার চিকিৎসা চলমান।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আল আমিন উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের দাড়িয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী। পাঁচ বছর ধরে তিনি ভিডিও কনটেন্ট নির্মাণের কাজ করছেন। মূলত হাস্যরসাত্মক, বাস্তব ও অবাস্তব কনটেন্টের মাধ্যমে তার পরিচিতি সামাজিক মাধ্যমে বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাকায় তার কাজের সহায়তায় আরও ৩০-৩৫ যুবক যুক্ত আছেন।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার সকালে। আল আমিন শীতকালীন ভিডিও বানানোর জন্য পুকুরের পানিতে পেট্রল ঢেলে আগুন পোহানোর দৃশ্য ধারণ করছিলেন। তার সহকর্মী আজাদ হোসেন জানিয়েছেন, আগুনের প্রকোপ হঠাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতে আল আমিনের পিঠ, পা এবং শরীরের অন্যান্য অংশ দগ্ধ হয়। প্রথমে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আল আমিনের দগ্ধ অংশ শরীরের প্রায় ২৮-৩০ শতাংশ। যদিও বর্তমানে তার অবস্থা কিছুটা উন্নতি করছে। আজাদ হোসেন বলেন, “আমরা কখনও ভাবিনি এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হবে। আগের কোনো ভিডিও নির্মাণের সময় এমন দুর্ঘটনা ঘটেনি। ভবিষ্যতে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় আল আমিনের আগুনে দগ্ধ হওয়ার ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আগুন থেকে বাঁচতে তিনি পানিতে ঝাঁপ দেন। এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট নির্মাতাদের মধ্যে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা একবার আরও প্রমাণিত হলো।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব কাঙাল শাহীন বলেছেন, “অনেকেই ভাইরাল হওয়ার লালসায় ঝুঁকিপূর্ণ কনটেন্ট তৈরি করছে। জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও জনপ্রিয়তার আকাঙ্ক্ষা মানুষকে বিচারবোধ হারাতে বাধ্য করে। আল আমিনের ঘটনা আমাদের সবাইকে সতর্ক হওয়ার বার্তা দিচ্ছে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভিডিও নির্মাণের ফলে কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে বিপজ্জনক কার্যকলাপকে উদ্ভাসিত করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে এই ধরনের কাজের পরিণতি মারাত্মক হতে পারে। এই দুর্ঘটনা কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ, যা নির্দেশ করে যে জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য জীবন ঝুঁকির বিনিময় কখনো উচিত নয়।