ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৬ জনে। রবিবার (৩০ নভেম্বর) দেশটির দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঘূর্ণিঝড়ের মূল কেন্দ্র মালাক্কা প্রণালীতে অবস্থান করায় সারা সপ্তাহ ব্যাপী ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে টানা বর্ষণ এবং প্রবল বাতাসে মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। বিশেষ করে সুমাত্রা দ্বীপের পশ্চিমতম তিনটি প্রদেশে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক।
দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার তথ্যানুযায়ী, সুমাত্রার ওই তিনটি প্রদেশ থেকে প্রায় ৮০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এখনও শত শত মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আটকা রয়েছেন এবং কমপক্ষে ২৭৯ জনকে নিখোঁজ হিসেবে গণনা করা হয়েছে।
বিপর্যস্ত এলাকায় রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকারীরা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ত্রাণ সামগ্রী, খাবার ও জরুরি চিকিৎসা সরবরাহ করছেন। সুহারিয়ান্তো জানিয়েছেন, উত্তর তাপানুলি থেকে সিবোলগা (উত্তর সুমাত্রা প্রদেশ) যাওয়ার প্রধান রুটটি পুনরায় চালু করার চেষ্টা চলছে। ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো পুনর্নির্মাণ ও উদ্ধারকার্যের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, মালাক্কা প্রণালী ঘেরা দক্ষিণ থাইল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলেও বন্যার ফলে জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে। থাই সরকারের মুখপাত্র সিরিপং আংকাসাকুলকিয়াত জানান, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে।
দুর্যোগের প্রভাব ও উদ্ধার কর্মকাণ্ড সংক্ষেপে নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | ইন্দোনেশিয়া | থাইল্যান্ড |
|---|---|---|
| প্রভাবিত এলাকা | সুমাত্রা দ্বীপের পশ্চিমতম তিনটি প্রদেশ | মালাক্কা প্রণালী সংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চল |
| মৃতের সংখ্যা | ৩৩৬ | ১৬২ |
| নিখোঁজ | ২৭৯ | তথ্য নেই |
| ত্রাণ কার্যক্রম | ৮০,০০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো, হেলিকপ্টার ও উদ্ধার দল কাজ করছে | ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চলছে |
| যোগাযোগ অবস্থা | প্রধান সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, পুনঃপ্রতিষ্ঠার কাজ চলছে | বিভিন্ন সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত |
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ঘূর্ণিঝড় ও টানা বর্ষণের কারণে আরও ভূমিধস ও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। সুমাত্রা ও মালয়েশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো জনসাধারণকে নিরাপদ স্থানে থাকা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলা এবং স্থানীয় জরুরি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সতর্ক করেছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢালবেগের কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া, ভূমিধসের কারণে বহু গ্রামবাসী এখন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। উদ্ধারকারীরা জানান, হেলিকপ্টার ও নৌযান ছাড়া অনেক এলাকায় পৌঁছানো কঠিন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় কর্মকর্তারা মনে করছেন, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডেও বিপর্যয়জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায়, মানবিক সাহায্যের তৎপরতা জোরদার করতে হবে। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সরবরাহ অতি জরুরি।
এই ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস প্রমাণ করছে, গ্রীষ্মমণ্ডলী
