বাংলাদেশ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (এবিবি) এর চেয়ারম্যান মাশরুর আরেফিন আগামী জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের বিনিয়োগ পরিবেশে উল্লেখযোগ্য উন্নতির প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে ক্রেডিট বৃদ্ধি খুব ধীর। ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে অপেক্ষা করছেন এবং দেশের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা দেখার জন্য স্থগিত রেখেছেন। নির্বাচনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় গতিশীল হবে।”
মুদ্রাস্ফীতির পরিস্থিতি নিয়ে চেয়ারম্যান আরেফিন উল্লেখ করেন, “আগে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে বর্তমানে এটি ১২ শতাংশ থেকে কমে ৮.১৭ শতাংশে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কেন্দ্রীয় লক্ষ্য অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতি ৫ শতাংশে নামানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।” তিনি ডলার বাজারে কোন হস্তক্ষেপ না থাকার বিষয়টিকে দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন হিসেবে বর্ণনা করেন।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চিত্রের সাম্প্রতিক তথ্যের ভিত্তিতে মূল আয়-ব্যয় চিত্র নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| অর্থনৈতিক সূচক | পরিমাণ |
|---|---|
| বার্ষিক রপ্তানি আয় | $৫০ বিলিয়ন |
| প্রবাসী আয় | $৩০ বিলিয়ন |
| বার্ষিক আমদানি | $৭০ বিলিয়ন |
| মোট আয় | $৮০ বিলিয়ন |
| মোট খরচ | $৭০ বিলিয়ন |
চেয়ারম্যান আরেফিন বলেন, “আমাদের মোট আয় $৮০ বিলিয়ন এবং খরচ $৭০ বিলিয়ন। এটি শুধু অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা প্রদর্শন করছে না, বরং বিদেশি খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করছে।”
ব্যাংকিং খাতের সাম্প্রতিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে তিনি জানান, ব্যাংক-টু-ব্যাংক ইন্টারব্যাংক মার্কেটে প্রতিদিন প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলারের লেনদেন হচ্ছে। চলতি হিসাব ঘাটতি $১৯ বিলিয়ন থেকে কমে $৪০০ মিলিয়নে নেমেছে এবং আর্থিক হিসাব বর্তমানে $২ বিলিয়ন সঞ্চয় দেখাচ্ছে। রিজার্ভ মানি Tk৩ লাখ কোটি পৌঁছেছে। আগের সরকারের নীতি অনুযায়ী ট্রেজারি বিল ও বন্ড নিজ হাতে নেওয়া হচ্ছে না। ব্যাংকিং আমানত বৃদ্ধি প্রায় ১০ শতাংশ।
যদিও দেশের ব্যাংকিং খাতে ক্রেডিট বৃদ্ধি সামান্য ধীর, তবুও সিটি ব্যাংকে ঋণ বৃদ্ধি শক্তিশালী এবং শীর্ষ ব্যাংকগুলোতে ঋণ কার্যক্রমে প্রত্যাশিত উন্নতি দেখা যাচ্ছে। চেয়ারম্যানের মতে, “নির্বাচনের পর আর্থিক বাজারে স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগে আত্মবিশ্বাস পুনরায় ফিরে আসবে।”
