কবর থেকে উদ্ধার ব্যবসায়ীর মরদেহ, ধৃত ব্যবসায়িক অংশীদার

গোপালগঞ্জের সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ২১ দিন পর খাগাইল এলাকার একটি কবরস্থান থেকে মাটি চাপা অবস্থায় এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি মিজানুর রহমান মোল্লা (৪৮), তিনি সদর উপজেলার ঘোষেরচর এলাকার হারেজ মোল্লার ছেলে এবং স্থানীয় মুঠোফোন ব্যবসায়ী ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জাহিদ মোল্লা নামের এক ব্যবসায়িক অংশীদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ৮ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে জাহিদ মোল্লা মিজানুরকে মুঠোফোনে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেন। এরপর থেকেই মিজানুর নিখোঁজ ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক অনুসন্ধান কৌশলের মাধ্যমে গতকাল সন্ধ্যায় খাগাইল কবরস্থান থেকে মিজানুরের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহ পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে শনাক্তের পর গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

ওসি শাহ আলম জানান, “মৃত্যুর সাথে জড়িত অন্য আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। আমরা তদন্তে অগ্রগতি পাচ্ছি এবং প্রতিটি তথ্য যাচাই করছি।”

নিহতের স্ত্রী জামিলা ইসলাম অভিযোগ করেছেন, “৮ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে জাহিদ মোল্লা মিজানুরকে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেন। এরপর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। মিজানুরের ব্যবহৃত সব মোবাইল নম্বর বন্ধ রয়েছে, যা আমাদের জন্য বড় ধাঁধার মতো।”

স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া বিরাজ করছে। মিজানুর ছিলেন পরিচিত ব্যবসায়ী ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ব্যক্তি। তিনি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমেও নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকার মানুষ উদ্বিগ্ন এবং দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি তুলছেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনার পেছনে আর্থিক লেনদেনের বিরোধের প্রেক্ষাপট থাকতে পারে। মুঠোফোন ব্যবসায়ে মিজানুর ও জাহিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অংশীদারিত্ব ছিল। তবে চলমান তদন্তে আরও বিস্তারিত তথ্য উদঘাটিত হতে পারে।

নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো:

তথ্য項বিবরণ
নিহতের নামমিজানুর রহমান মোল্লা
বয়স৪৮ বছর
পেশামুঠোফোন ব্যবসায়ী
স্থানঘোষেরচর, সদর উপজেলা, গোপালগঞ্জ
নিখোঁজ হওয়ার তারিখ৮ নভেম্বর
মরদেহ উদ্ধার তারিখ২৯ নভেম্বর
উদ্ধার স্থানখাগাইল কবরস্থান
মূল সন্দেহভাজনজাহিদ মোল্লা
ময়নাতদন্তের স্থানগোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল

এই ঘটনা স্থানীয় মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশ তদন্তে সকল সংশ্লিষ্ট দিক খতিয়ে দেখছে।