চট্টগ্রামের নরম সন্ধ্যায় বাতাসে ছিল চাপা উত্তেজনা। সিরিজে টিকে থাকতে হলে যে বাংলাদেশকে জিততেই হবে, সেটা জানতেন মাঠে থাকা প্রতিটি ক্রিকেটার। আর ঠিক সেই মুহূর্তে দলের হাল ধরে সামনে এসে দাঁড়ালেন অধিনায়ক লিটন দাস। তাঁর হাফ সেঞ্চুরির পর ব্যাট তুলবার ভঙ্গিটিই বলে দিচ্ছিল—এ ইনিংস শুধু রান নয়, বিশ্বাস ফেরানোরও প্রতীক।
আয়ারল্যান্ডের বিস্ফোরক সূচনার পর বাংলাদেশের ডাগআউটে যে ধরনের চাপ নেমে এসেছিল, সেটা সহজেই অনুমেয়। স্টার্লিং মাত্র ১৪ বলে ২৯ রান করে ছুটে যাচ্ছিলেন আরেকটি ভয়ংকর ইনিংসের দিকে। টিম টেক্টরের শটগুলোও ছিল চোখধাঁধানো। ম্যাচের প্রথম ভাগে মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশ হয়তো আরও একটি কঠিন দিনে পড়তে যাচ্ছে। কিন্তু মেহেদী হাসান যেন হঠাৎই খেলার দিশা পাল্টে দিলেন। তাঁর টপস্পিন এবং অফব্রেকের বৈচিত্র্যে আটকে যায় আয়ারল্যান্ডের রানের ইনিংস। ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রানে ৩ উইকেট—বাংলাদেশকে খেলায় ফেরানোর পেছনে এই স্পেলের অবদান অসামান্য।
১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে খুব দ্রুত উইকেট না হারানোই ছিল মূল শর্ত। পারভেজ যেন তা ভালোভাবেই বুঝেছিলেন। তিনি শুরু থেকেই ছন্দে খেলতে থাকেন। তাঁর ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস বাংলাদেশকে চাপমুক্ত করে। তানজিদ দ্রুত আউট হলেও লিটন ও সাইফ হাসানের জুটি ম্যাচের গতিপথ স্থির রাখে। লিটন নিজের ইনিংস গড়েন ধৈর্য, বিচক্ষণতা ও সময়োচিত শট নির্বাচনের ওপর ভর করে। তাঁর ৫৭ রানের ইনিংসটি ছিল নেতৃত্বের প্রদর্শনীর মতো।
শেষ দিকে কিছু অপ্রত্যাশিত উইকেট পতনে উত্তেজনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসানের বাউন্ডারি বাংলাদেশের সবার মুখে হাসি ফোটায়। এই জয় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসে বড় রকমের জ্বালানি যোগ করেছে। প্রথম ম্যাচের হার ভুলে দ্বিতীয় ম্যাচের জয় দলকে আবার লড়াইয়ে ফিরিয়ে এনেছে—এটাই আসলে এই রাতের মূল গল্প।
