স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন যে তিনি নির্বাচনী মাঠে নামার আগে নৈতিক অবস্থান থেকেই উপদেষ্টার দায়িত্ব ছাড়ার কথা বিবেচনা করছেন। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি, নির্বাচন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে হলে প্রার্থীর উচিত প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো। এতে নির্বাচনের ন্যায়পরতা বজায় থাকে এবং জনগণের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা যায়।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে সরকারের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী কোনো আইনি বাধা নেই। তবুও নৈতিকতার জায়গা থেকে তিনি মনে করেন এটি প্রয়োজন। তিনি বলেন, “সরকারের দায়িত্বে থাকাকালে নির্বাচনে অংশ নেওয়া স্বার্থের সংঘাত তৈরি করে। তাই নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে পদত্যাগ করার বিষয়টি আমি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।”
এদিন সাংবাদিকদের আরেকটি আলোচিত প্রশ্ন ছিল—তিনি কোন আসন থেকে নির্বাচন করতে চান? উত্তরে আসিফ মাহমুদ বলেন, “এখনো কোনো আসন ঘোষণা দিইনি। আমি কিছু সম্ভাব্য আসন নিয়ে ভাবছি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় চাই।”
রাজনৈতিক অঙ্গন মনে করছে, রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসন তার বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে তিনি নিজে যখন প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করছেন না, তখন বিষয়টি আরও রহস্যময় হয়ে উঠছে।
রাজনৈতিক দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আসিফ স্পষ্টভাবেই বলেন, “রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে এখন মন্তব্য করা ঠিক হবে না। পরিস্থিতি আরও কিছুটা পরিষ্কার হলে আমি জানাবো।” তার এই সংযত ও সতর্ক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, তিনি হয়তো নতুন কোনো রাজনৈতিক জোট বা প্ল্যাটফর্ম তৈরির বিষয়ে চিন্তা করছেন।
অনেকে আবার বলছেন, তিনি জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা মূল্যায়ন করে কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে কোনো কিছুই তিনি স্পষ্টভাবে জানাননি।
সচিবালয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্বাচনী মাঠে নামতে চাইলে এসব দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোই উত্তম। এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নির্বাচনী ন্যায্যতার প্রশ্নে কোনো সন্দেহ থাকে না।
তার এ অবস্থান গণমাধ্যমে একইসঙ্গে ইতিবাচক ও জল্পনামূলক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বচ্ছ ও নীতিসম্মত রাজনীতির পক্ষে তিনি যে অবস্থান নিয়েছেন, তা অন্যদের জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, তার মন্তব্যগুলো ইঙ্গিত করছে যে আসন্ন নির্বাচনে তাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। কোন দল ও কোন আসন—এ প্রশ্নের উত্তর এখনও মিলেনি, তবে প্রত্যাশা বাড়ছে প্রতিদিন।
