হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (ঢাকা) লাগেজ চুরির ঘটনায় আরমান হোসেন নামে এক যাত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক)। এই ঘটনা বিমানবন্দর ও দেশের আকাশপথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে নতুনভাবে সামনে এনেছে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে গ্রেপ্তার করা হয় আরমান হোসেনকে। মঙ্গলবার বেবিচকের (বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ) জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, “রাতে ঢাকা থেকে জেদ্দা যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আরমানকে বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছে।”
ঘটনার পটভূমি অনুসারে, আরমান হোসেন ৩ নভেম্বর সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি-৮০৬ ফ্লাইটে রিয়াদ থেকে ঢাকায় আসেন। এরপর ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে তিনি বেল্ট নম্বর-২ তে যান, যেখানে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের লাগেজ বিতরণ করা হচ্ছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আরমান ওই বেল্ট থেকে দুটি লাগেজ চুরি করে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে, ৯ নভেম্বর তিনি একইভাবে অন্য একটি বেল্ট থেকে আরও একটি লাগেজ নিয়ে চলে যান। এভাবে তিনি বিমানবন্দর ব্যবস্থার উপর অস্বাভাবিক ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ চালান।
ভুক্তভোগী কাউছার মাহমুদ বলেন, “অপরাধের প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সাক্ষ্য যাচাইয়ের পর অভিযুক্ত আরমান হোসেনকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে পাঠানো হয়। তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।”
ঘটনার বিস্তারিত সময়রেখা নিচের টেবিলে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| তারিখ | ঘটনা | মন্তব্য/প্রমাণসূত্র |
|---|---|---|
| ৩ নভেম্বর | আরমান হোসেন রিয়াদ থেকে ঢাকায় ফ্লাইটে আসেন | সৌদি এয়ারলাইন্স এসভি-৮০৬ ফ্লাইট |
| ৩ নভেম্বর | বেল্ট নম্বর-২ থেকে দুটি লাগেজ নিয়ে চলে যান | সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রমাণ |
| ৯ নভেম্বর | অন্য বেল্ট থেকে আরও একটি লাগেজ চুরি করেন | সিসিটিভি ফুটেজ |
| ২৪ নভেম্বর | ঢাকা থেকে জেদ্দা যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার | এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) |
| ২৪ নভেম্বর | নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সাজা | এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড |
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার পর আরো সতর্কতার সঙ্গে লাগেজ বিতরণ ও যাত্রী তল্লাশির প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়েছে। এভিয়েশন সিকিউরিটির কর্মকর্তা জানান, “ভবিষ্যতে এমন ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করার জন্য সিসিটিভি মনিটরিং, এক্স-রে স্ক্যানার এবং যাত্রী পরিচয় যাচাই আরও কঠোর করা হবে।”
অপরাধী যাত্রীর প্রমাণ এবং সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিমানবন্দর ব্যবস্থায় আরও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং যাত্রী সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। এটি শুধু যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না, বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে দেশের বিমানবন্দর নিরাপত্তার মান উন্নত করবে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “যাত্রীদের সতর্ক থাকা এবং অনুমোদিত লাগেজ বিতরণ কেন্দ্র ব্যবহার করা অপরিহার্য। কোন প্রকার অবৈধ কার্যক্রম ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এভাবে আরমান হোসেনের গ্রেপ্তার ও এক বছরের কারাদণ্ড দেশের বিমানবন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে প্রয়োগের প্রতিফলন। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আগামীতে আরও জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
