যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনকে চাপ দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা মেনে নিতে। রোববার ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেন, “আমাদের প্রচেষ্টার প্রতি ইউক্রেনের নেতৃত্ব শূন্য কৃতজ্ঞতা দেখিয়েছে।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনার সময়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার তৈরি ২৮ দফা পরিকল্পনা নিয়ে ইউক্রেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেছেন। মার্কো রুবিও এই বৈঠককে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এই পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, চার বছর ধরে চলা রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকেও সমালোচনা করেছেন, তবে মস্কোর প্রতি সরাসরি নিন্দা জানাননি।
প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় ইউক্রেনকে পূর্বাঞ্চলের কিছু অঞ্চল রাশিয়ার হাতে দিতে হবে এবং তাদের সামরিক বাহিনী হ্রাস করতে হবে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তাও সীমিত করা হবে। ইউক্রেন ও তার মিত্ররা এই শর্তগুলোকে ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে দেখছেন।
গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা মেনে চলবেন। তিনি আরও বলেন, যদি পরিকল্পনা মেনে না নেওয়া হয়, তবে জেলেনস্কিকে একাই লড়াই চালাতে হবে। রোববার তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোরও সমালোচনা করেছেন, কারণ তারা রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনছে।
ট্রাম্প জো বাইডেনকে “কুটিল” আখ্যা দিয়ে উল্লেখ করেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিনামূল্যে ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়েছেন। তিনি শুধুমাত্র এটুকুই উল্লেখ করেছেন যে, “ঘুমন্ত জো বাইডেন” থাকার সুযোগে পুতিন ইউক্রেনে অভিযান চালাতে পেরেছেন। ট্রাম্পের মন্তব্যগুলো সাম্প্রতিক বৈশ্বিক কূটনীতি এবং ইউক্রেন–রাশিয়া সংঘাতের জটিল পরিস্থিতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।
