ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের হরিনা গ্রামে মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে পাঁচ শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। কয়েক দিন আগে হামলার ঘটনার পর ঘোষপাড়া, সাহাপাড়া, জেলেপাড়া ও তাঁতিপাড়াসহ পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুনরায় হামলার আশঙ্কায় অনেক পরিবার গ্রাম ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শুক্রবার (২২ নভেম্বর) সকালে হরিনা গ্রামের মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মানুষজন অভিযোগ করেন, মামলার পরও আসামিরা গ্রামে এসে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন, ফলে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার আগে হরিনা গ্রামের বাসিন্দা কেদার নাথ গোপ তার নিজস্ব জমিতে রাধা গোবিন্দ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভারতে চলে গেলে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিয়মিত পূজা-অর্চনা চালিয়ে যান। স্বাধীনতার পর কেদার নাথের আত্মীয় পরিচয়ে জয়দেব ঘোষ মন্দিরসহ প্রায় ৪৫ শতাংশ জমি নিজের নামে নেওয়ার জন্য জাল দলিল তৈরি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
সম্প্রতি অভিযোগ রয়েছে, জয়দেব ঘোষ গোপনে মন্দিরসহ ওই জমি বাবুল বেপারির কাছে বিক্রি করেন। এরপর জমি দখলের উদ্দেশ্যে জয়দেব ঘোষ, বাবুল বেপারি ও তাদের সহযোগীরা গত ১৬ নভেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মন্দিরে ভাঙচুর শুরু করেন। স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দারা বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে ১৫ থেকে ২০ জন গুরুতর আহত হন। এ সময় কয়েকটি বাড়িতে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগও করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, ঘটনার পর মামলা হলেও অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন। রাতে বাড়ির সামনে এসে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকির কারণে পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে রয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেন, সিসিটিভি ফুটেজে হামলার দৃশ্য ধারণ হয়েছে।
এ বিষয়ে জয়দেব ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি পলাতক থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার অপর আসামি বাবুল বেপারিও মন্তব্য করতে রাজি হননি। সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সুকদেব রায় জানান, মন্দির ভাঙচুর, হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত সতর্ক নজরদারি রাখা হয়েছে।
জিলাইভ/টিএসএন
