বড় ভূমিকম্পে ধ্বংসের মুখে পুরান ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম

বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে পুরান ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের অসংখ্য ভবন ধসে পড়ে ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় প্রায় ছয় লাখ ভবনকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যার বড় অংশই পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। পুরোনো ও অপরিকল্পিত ভবন, সরু গলি এবং অতিরিক্ত জনঘনত্ব ঢাকাকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

সিলেটও দেশের অন্যতম ভূমিকম্পঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। ভারতের মেঘালয়ের ডাউকি ফল্ট এবং স্থানীয়ভাবে সক্রিয় চ্যুতি বা ফল্ট লাইনের কারণে সিলেট জেলা প্রায়ই ভূমিকম্পের কম্পন অনুভব করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাত্র ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পেই সিলেটের বহু পুরোনো ও নন-ইঞ্জিনিয়ারিং ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে। ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা ফল্টগুলোর পুনরায় সক্রিয় হওয়া এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। ইতিহাস বলছে, ১৮৯৭ সালের ১২ জুন ডাউকি ফল্ট থেকে উৎপত্তি হওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্পে বৃহত্তর সিলেটের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস হয়েছিল, যা ‘বড় ভুইছাল’ নামে পরিচিত।

চট্টগ্রাম নগরীতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নগরে বর্তমানে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১১১টি ভবন রয়েছে, যার ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ বড় ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে। ৭.৫ থেকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। অধিকাংশ ভবনই বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করে নির্মিত এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধী ব্যবস্থা অনুপস্থিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে রিখটার স্কেলে ৮.২ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প গবেষক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, বিল্ডিং কোড না মানলে ক্ষয়ক্ষতি অনিবার্য। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, নতুন নির্মাণে কঠোরভাবে কোড মানা এবং উদ্ধার সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
জিলাইভ/টিএসএন